পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় আবারও এক অভিনয়সম অধিবেশন। আইনপ্রণয়নের গাম্ভীর্য আজও হার মানল রাজনৈতিক ঝগড়াঝাঁটিতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুললেন বিজেপি বাংলার স্বার্থ বিক্রি করছে। বিরোধীরা হাততালি দিয়ে পাল্টা দিলেন দিদিই আসল……
দিনের আলোচ্যসূচি ছিল ভাষা রক্ষা। কিন্তু ফল দাঁড়াল ভিন্ন চিত্রে। ভাষা কোথায় গেল, সেটা খুঁজে বের করতে হলে হয়তো আলাদা তদন্ত কমিটি বসাতে হবে। অধিবেশন জুড়ে কেবল “চোর” শব্দের মহড়া। একে অপরকে দোষী প্রমাণে শাসক-বিরোধী এতটাই একসঙ্গে গলা মিলালেন যে, সাধারণ মানুষও হয়তো ভাবছেন, চোর যদি উভয়েই হন, তবে ধরা পড়বেন কে?
বিরোধী শিবিরের এক বিধায়ক মার্শালদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগ তুলে অ্যাম্বুলেন্সে করে বেরিয়ে গেলেন। এই দৃশ্যের পর কেউ বললেন নাটক, কেউ বললেন আক্রমণ। আসলে পুরো ঘটনা মনে করিয়ে দিল কুস্তির আসরকে যেখানে কে সত্যিই আঘাত পেলেন, আর কে অভিনয়ে মাতলেন, সেটা দর্শকই বিচার করেন।
তৃণমূলের দাবি, বিজেপি বাংলা-বিরোধী। বিজেপির দাবি তৃণমূল গণতন্ত্র খুন করছে। প্রশ্ন হল, এতদিনে যদি গণতন্ত্র সত্যিই খুন হয়ে থাকত, তাহলে তার শোকসভা কোথায়? নাকি প্রতিদিন এই একই অভিযোগই নতুন এপিসোড হয়ে সম্প্রচারিত হচ্ছে?
বছরের পর বছর বাংলার রাজনীতিতে একই চিত্র এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রমাণে মত্ত। জনগণের সমস্যাগুলো-বেকারত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব হারিয়ে যায় এই চোর-পুলিশ খেলায়। আইনসভা যে নীতিনির্ধারণের মঞ্চ, তা আজ যেন নিন্দে-নালিশের হাটে পরিণত।
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে গণতন্ত্রের মর্যাদার। সাধারণ মানুষ যাঁদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন সমস্যার সমাধান খোঁজার জন্য, তাঁরা এখন কেবল প্রতিদিন নতুন নাটক মঞ্চস্থ করছেন। বাইরে দাঁড়ানো ভোটাররা অবাক হয়ে ভাবছেন, চোর ধরার দায়িত্ব যাঁদের, তাঁরাই যদি প্রতিদিন একে অপরকে চোর প্রমাণে ব্যস্ত থাকেন, তবে আসল অপরাধী কে?
তৃণমূলের চোখে বিজেপি চোর, বিজেপির চোখে দিদি চোর। অথচ জনগণের চোখে, গোটা খেলাই এক সার্কাস। যেখানে সত্যিই কে চোর, আর কে রক্ষক, তার উত্তর এখনও অধরা।
