একে কি মুখ্যমন্ত্রীর মানবিকতা বলা যাবে, নাকি বলতে হবে মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দিচ্ছেন? বৃহস্পতিবার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে শিক্ষারত্ন সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এই প্রশ্নই ঘুরছে আমজনতার মনে।
ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আদালতের নির্দেশে যাদের চাকরি চলে গিয়েছে, যারা আর শিক্ষক হতে পারবেন না তাঁদের গ্রুপ সিতে সুযোগ দেওয়া যায় কিনা সে বিষয়ে তিনি আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। তৃণমূলের একাংশের দাবি, এটা মুখ্যমন্ত্রীর মানবিকতার পরিচয়। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের কটাক্ষ, আসলে মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রী, বিধায়কদের ছেলেমেয়ে ও আত্মীয়রা চাকরিগুলি পেয়েছিলেন। তাই তাদের বাঁচাতে আসরে নামছেন মুখ্যমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্টকেও মুখ্যমন্ত্রী মানেন না।
উল্লেখ্য, ২০১৬-র শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, যাদের নাম কালো তালিকায় রয়েছে তারা আর নতুন করে পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। এই নির্দেশের ফলে চাকরি হারানো হাজার হাজার শিক্ষক ঘোর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
শিক্ষারত্ন সম্মান প্রদানের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি কাউকে হতাশ হতে বলছেন না। তাঁর সরকার বিষয়টি মানবিকভাবে দেখছে। শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। শিক্ষক নিয়োগের কাজ মিটে গেলে তারপরেই শুরু হবে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে নিয়োগ। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, আইনি গেরোয় শিক্ষক নিয়োগ পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। তাঁর সরকার নিয়োগের ব্যবস্থা করতে গেলেই বিরোধীরা কেউ না কেউ আদালতে গিয়ে সেটা আটকে দিচ্ছে। ফলে হাজার হাজার নিয়োগ আটকে রয়েছে। চাকরিহারাদের জন্য তাঁর খুব খারাপ লাগছে। এই ঘটনায় তিনি একেবারেই খুশি নন। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই মুহূর্তে রাজ্যে ৫৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। যার মধ্যে ৩৫ হাজার ৭২৬ টি পদের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ২১ হাজার নিয়োগ প্রক্রিয়া তাঁর হাতে আছে।
এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আদালতের নির্দেশে যারা শিক্ষকতার চাকরিতে আর ফিরতে পারবেন না তাদের জন্য বিকল্প রাস্তার কথা ভাবা হচ্ছে। গ্রুপ সি-তে তাঁদের নিয়োগ করা যায় কিনা সে বিষয়ে তিনি আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য একাংশের কাছে মনে হয়েছে নতুন দিশা। অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দল-সহ আমজনতা অনেকেই মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতিকেই ধামাচাপা দিতে চাইছেন। কারণ এই নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত তাঁর দল তৃণমূল। তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীর ছেলেমেয়ে,আত্মীয়রাই সব চাকরি পেয়েছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রী যে কোনওভাবে তাঁদের চাকরি ফেরাতে চাইছেন।
