দেখতে দেখতে কেটে গেল প্রায় তিন মাস। পহেলগাম জঙ্গি হামলার ১৫ দিনের মাথায় ৭ মে পাকিস্তানে প্রত্যাঘাত হানে ভারত। অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিন্দুর’। সেই হানায় হামলা চালানো হয় নূর খান বিমানঘাঁটিতে। যদিও সেই বিমানঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে পাক সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠে তথ্য গোপনের অভিযোগ। তবে স্থানীয় বিভিন্ন পাক সংবাদমাধ্যম জানায়, নয়াদিল্লির ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে বড়সড় ক্ষতির কথা। জানা যায় প্রাণ হারান স্কোয়াড্রন লিডার পদমর্যাদার একাধিক অফিসার। তবে সেই সময় তথ্য গোপন করা হলেও পাকিস্তান রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটির অংশবিশেষে পুনর্গঠন শুরু করেছে বলে জানা গেছে। নতুন এক স্যাটেলাইট চিত্রে এই তথ্য মিলেছে।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী এই সপ্তাহের শুরুতেই পাকিস্তান সরকারের দুটি ভিভিআইপি জেটের একটিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও অন্যটিতে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির চিনে এসসিও সম্মেলনে যান। শরিফের গালফস্ট্রিম জি ৪৫০ লাহোর থেকে উড়লেও মুনির যাত্রা করেন রাওয়ালপিন্ডির নূর খান ঘাঁটি থেকেই। সেই উড়ানের স্থান ছিল অপারেশন সিন্দুরে ভারতের হামলায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পাশেই।
আমেরিকাভিত্তিক ম্যাক্সার টেকনোলজিস থেকে পাওয়া নতুন ছবিতেই স্পষ্ট হয়েছে যে হামলার তিন মাস পর নূর খান ঘাঁটিতে পুনর্গঠন চলছে। বুধবারই তোলা ছবিতে নতুন দেওয়াল ও খোঁড়াখুঁড়ির কাজের অগ্রগতি ধরা পড়েছে। তথ্য বলছে, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর নং ১২ ভিআইপি স্কোয়াড্রন, যা ‘বুরাক্স’ নামে পরিচিত, এই ঘাঁটি থেকেই পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সেনাপ্রধানসহ দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে বহন করার দায়িত্ব এই ইউনিটের।
পাকিস্তান স্বীকার না করলেও স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায় হামলার আগে থাকা বিশেষ সামরিক ট্রাক ধ্বংস হয়ে গেছে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে। ইন্টেল ল্যাবের জিও-ইন্টেলিজেন্স গবেষক ড্যামিয়েন সাইমনও এই তথ্যে স্বীকৃতি দেন। এসব ট্রাক কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের কাজ করত, যা আকাশ ও স্থল বাহিনীকে যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্র্যাক করত। এবার সেই স্থানের পুনর্গঠন প্রমাণ করছে যে অপারেশন সিন্দুরের সময় সত্যিই ভারতীয় হামলায় মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল।
