আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমেরিকা যদি ভারতের পণ্যে ৫০% শুল্ক আরোপ করতে পারে, তবে ভারতকে আমেরিকা থেকে আসা আমদানির উপর ৭৫% শুল্ক বসাতে হবে।
রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কেজরিওয়াল বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি সাহস দেখাতে। গোটা দেশ আপনার পাশে আছে। আমেরিকা ভারতের রপ্তানিতে ৫০% শুল্ক বসিয়েছে, আপনি ৭৫% শুল্ক বসান আমেরিকান পণ্যের আমদানিতে। দেখুন ট্রাম্প মাথা নোয়ায় কি না।”
কেজরিওয়াল কেন্দ্রের ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমেরিকার তুলো আমদানিতে ১১% শুল্ক মকুব করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, আর উপকৃত হবেন মার্কিন কৃষকরা।
তিনি বলেন, “আমেরিকার তুলো ভারতে এলে, এখানকার কৃষক বাজারে ৯০০ টাকারও কম দাম পাবেন। এতে দেশের তুলো চাষীরা গরিব হবে, আর আমেরিকার কৃষক ধনী হবে।”
কেজরিওয়ালের মতে, অক্টোবর-নভেম্বরে ফসল কাটার সময় ভারতীয় তুলো চাষিদের বিক্রির কোনও সুযোগ থাকবে না। ঋণের ভারে জর্জরিত কৃষকদের আত্মহত্যার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, মোদি সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে পড়ে কৃষকদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে। “মোদিকে পুরো দেশ সমর্থন করছে। ট্রাম্প ৫০% শুল্ক বসিয়েছে, মোদির উচিত ছিল তুলোর উপর ১০০% শুল্ক বসানো। ট্রাম্প বাধ্য হয়ে মাথা নোয়াত। ট্রাম্প কাপুরুষ, ভীতু মানুষ,” তিনি মন্তব্য করেন।
কেজরিওয়াল শুল্ক আরোপের পাশাপাশি তিনটি দাবি জানান – আমেরিকার তুলো আমদানিতে ফের ১১% শুল্ক আরোপ, তুলোর জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) নির্ধারণ এবং কৃষকদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে কেন্দ্র জানিয়েছে, তুলো আমদানির শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে ভারতের রপ্তানি বাজারকে শক্তিশালী করার স্বার্থে, বিশেষত ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য।
