নেপালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধকরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে হিংসাত্মক বিক্ষোভে ১৯ জন নিহত ও দুই শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক পদত্যাগ করেছেন। তিনি সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে ইস্তফাপত্র জমা দেন।
৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম (যেমন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও এক্স) নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কাঠমান্ডু সহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী রাস্তায় নেমে আসে। ‘জেন জি’ প্রজন্মের এই বিক্ষোভ দ্রুত হিংসাত্মক রূপ নেয়, যখন কিছু বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনে প্রবেশ করে। পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
প্রশাসনের দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়ো আইডি ব্যবহার করে ঘৃণামূলক বক্তব্য, ভুয়ো খবর, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্থাগুলো নতুন নিয়মে রেজিস্ট্রেশন করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।
৬১ বছর বয়সী রমেশ লেখক নেপালি কংগ্রেসের নেতা। তিনি ১৯৯৯, ২০০৮ ও ২০১৩ সালে প্রতিনিধি সভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং অতীতে নেপালের পরিকাঠামো ও পরিবহনমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি কাঞ্চনপুর-৩ আসন থেকে দ্বিতীয় ফেডারেল পার্লামেন্টে নির্বাচিত হন।
সংঘর্ষ ও হিংসাত্মক ঘটনার পর সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং জারি হয়েছে কারফিউ। জেলার প্রধান কর্মকর্তা ছাবি লাল রিজাল এক ঘোষণায় জানান, নিষিদ্ধ এলাকায় কোনও ধরনের সমাবেশ, বিক্ষোভ বা মিছিল করা যাবে না। কারফিউ জোনের মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন শীতল নিবাস, উপরাষ্ট্রপতির বাসভবন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বালুওয়াটার, সিংহদরবার ও তার আশপাশের এলাকা।
