পাকিস্তানের তৃতীয় বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক করলেন মহম্মদ নওয়াজ। তাঁর দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের সৌজন্যেই রবিবার শারজায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ৭৫ রানের বিশাল জয় ছিনিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান। কঠিন সারফেসে পাকিস্তানের ৮ উইকেটে ১৪১ রানের জবাবে ১৫.৫ ওভারে আফগানরা গুটিয়ে যায় মাত্র ৬৬-তেই। হ্যাটট্রিকসহ ১৯ রানে মোট ৫ উইকেট নিয়ে কেরিয়ারের সেরা বোলিং নওয়াজের।
পর পর দুই বলে দারবিশ রসুলি এবং আজমতুল্লাহ ওমরজাইকে শূন্য রানে আউট করেন নওয়াজ। এর পরের ওভারের প্রথম বলেই ইব্রাহিম জাদরানকে তুলে নিয়ে পাকিস্তানের তৃতীয় বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে এর আগে হ্যাটট্রিক করেছেন ফাহিম আশরাফ এবং মহম্মদ হাসনাইন। রবিবার তাঁদের সঙ্গে একাসনে বসে পড়লেন বাঁহাতি স্পিনার নওয়াজও।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে স্পিনের বিরুদ্ধে চাপে পড়ে পাকিস্তানও। আফগান অধিনায়ক রশিদ খান ৩ উইকেট নিয়ে মাত্র ১৪১ রানেই আটকে রাখেন বিপক্ষকে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন ফখর জামান। এ ছাড়া বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও কার্যকরী ইনিংস খেলে যান নওয়াজ। ২১ বলে দুটি ছক্কার সাহায্যে ২৫ রান করেন তিনি। পাক অধিনায়ক সলমন আঘা ২৭ বলে করেন ২৪ রান।
জবাবে নওয়াজের স্পিন-ভেল্কিতে ৬৬ রানেই শেষ আফগান ইনিংস। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৫৬ রানে অলআউট হয়েছিলেন রশিদ খানেরা। এর পর এটাই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। দুই অঙ্কে পৌঁছন শুধুমাত্র অধিনায়ক রশিদ (১৭) এবং সিদিকুল্লাহ আতাল (১৩)।
এশিয়া কাপের ঠিক আগে দলের এমন সাফল্যে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। ত্রিদেশীয় সিরিজটি শুরুর প্রাক্কালে জনৈক সাংবাদিক আফগানিস্তানকে এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল আখ্যা দেওয়ায় বিব্রত বোধ করেছিলেন পাক অধিনায়ক। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আঘার অভিব্যক্তি ভাইরাল হয় সমাজ মাধ্যমে। ফাইনালে সেই আফগানদের হারিয়েই শিরোপা জয়ের পর তিনি বলেন, “আমরা এমন প্রস্তুতি নিতে চেয়েছিলাম যা আমাদের এশিয়া কাপের জন্য সাহায্য করে। আর আমরা তা করেছি।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সিরিজের পর থেকে আমরা সত্যিই ভাল করছি। অবশেষে আমরা খুব ভাল জায়গায় আছি এশিয়া কাপের জন্য।”
