একসময়ের অশান্ত শ্রীলঙ্কা আর বাংলাদেশের কথা মনে পড়িয়ে দিচ্ছে আজকের নেপাল। রিপোর্ট অনুযায়ী, নেপালে চলা হিংসায়, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সহ একাধিক মন্ত্রীর পদত্যাগের পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক ভিডিয়ো, যেখানে দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা অর্থমন্ত্রী তথা উপ-প্রধানমন্ত্রী বিষ্ণু পাওডেলকে ধাওয়া করছে ও লাথি মারছে (যদিও ভিডিয়োর সত্যতা বা ভিডিয়োতে থাকা ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি জাজবাত২৪বাংলা)।
সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা ওই ভিডিয়োটিতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি জনতার ভিড়ের মধ্যে দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন, বিক্ষোভকারীদের একজন তাঁকে লাথি মারছে এবং অন্যরা তাঁকে ধরার চেষ্টা করছে। একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, ভিডিয়োতে যে মানুষটিকে দেখা যাচ্ছে, তিনি বিষ্ণু পাওডেল। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এর আগেই বিষ্ণু পাওডেলের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। শুধু তাই নয়, ক্ষুব্ধ জনতা প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ও আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার বাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়। কাঠমান্ডু ও আশপাশের এলাকায় এসব হামলা হয়েছে। উত্তেজিত জনতা যেসব নেতার বাড়ি টার্গেট করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন নেপালি কংগ্রেসের নেতা শের বাহাদুর দেউবা, রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাওডেল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক এবং বিরোধী নেতা ও নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র প্রধান পুষ্প কমল দাহাল ওরফে ‘প্রচণ্ড’। এদিন কয়েকশো বিক্ষোভকারী নেপালের সংসদ ভবনে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংসদ সচিবালয়ের মুখপাত্র একরাম গিরি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, কয়েকশো বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
মূলত ব্যান করে দেওয়া সোশ্যাল মিডিয়া ফেরানোর দাবিতে শুরু হয়েছিল এই আন্দোলন। কিন্তু সোমবার বিকেল থেকেই আন্দোলনের অভিমুখ ঘুরতে থাকে। ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্স-এর মতো প্ল্যাটফর্মের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও মঙ্গলবার কারফিউ অমান্য করে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং সরকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের অভিযোগে হামলা চালাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।
