উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের সাংসদদের ক্রস ভোটিংয়ের বিষয়টি এখন নতুন হাতিয়ার শাসক শিবিরের কাছে। বিজেপি কটাক্ষ করে বলেছে, বিরোধী জোটের ভেতরে বিভাজন স্পষ্ট, বিশেষত সামনে আসন্ন বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু নির্বাচনকে ঘিরে।
শশী থারুর-এর মতো কংগ্রেস থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হওয়া আরেক নেতা মনীশ তিওয়ারি দাবি করেছেন, এই ঘটনায় তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “ক্রস ভোটিং অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। যদি সত্যিই হয়ে থাকে, তবে তা ইন্ডিয়া জোটের প্রতিটি শরিক দলের পক্ষ থেকে গভীরভাবে তদন্ত হওয়া দরকার।”
এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এক্স-এ পোস্ট করে বিরোধীদের কটাক্ষ করে লেখেন, “ইন্ডিয়া জোটের কয়েকজন সাংসদকে বিশেষ ধন্যবাদ, যারা বিবেকের তাগিদে এনডিএ প্রার্থী সি পি রাধাকৃষ্ণণকে ভোট দিয়েছেন।”
তবে অধিকাংশ বিরোধী নেতা ক্রস ভোটিংয়ের অভিযোগ নাকচ করেছেন।
এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে প্রশ্ন তুলেছেন, “ভোট যদি গোপন হয়, তবে কে জানল কে কাকে ভোট দিল? মহারাষ্ট্রকে কেন দোষারোপ করা হচ্ছে?”
আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বলেছেন, “আমাদের ৯ জন সাংসদই ইন্ডিয়া জোট প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।”
শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)-এর অরবিন্দ সাওয়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “যে সাংসদরা ভোট নষ্ট করলেন, তারা কি অশিক্ষিত, নাকি ভোট কিনে নেওয়া হয়েছে?”
তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রতিটি ভোট কিনতে ১৫-২০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, “আমাদের ৪১ জন সাংসদই বিরোধী প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।
সংখ্যার হিসেবে বিরোধী শিবিরে ৩১৫ জন সাংসদ থাকার কথা, কিন্তু প্রার্থী বি সুদর্শন রেড্ডি পেয়েছেন ৩০০ টি ভোট। অন্যদিকে, এনডিএর কাছে ৪২৭ ভোট ছিল এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেসের ১১ সাংসদ যোগে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩৮। তবুও এনডিএ প্রার্থী রাধাকৃষ্ণণ পেয়েছেন ৪৫২, অর্থাৎ অতিরিক্ত ১৪টি ভোট।
এছাড়া ১৫টি ভোট বাতিল হয়েছে। সূত্র জানাচ্ছে, এর মধ্যে সাতটিতে একই ধরনের ভুল ছিল। এনডিএ প্রার্থীকে ভোট দেওয়া হলেও ভুল ঘরে চিহ্ন দেওয়া হয়। দুটি ভোটে টিক চিহ্ন এবং একটিতে সংখ্যা লেখা ছিল।
