কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদ থেকে সোমবার অবসর নিলেন বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। মাদ্রাজ হাইকোর্ট থেকে সেই ২০২১ সালে ২৫ অক্টোবর তিনি কলকাতা হাইকোর্টে যোগ দিয়েছিলেন বিচারপতি হিসেবে। পরে ২০২৩ সালের ১১ই মে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধান বিচারপতির সেই দায়িত্বভার তিনি ছেড়েছেন। তাঁর শূন্য আসনে আপাতত দায়িত্বভার সামাল দেবেন বিচারপতি সৌমেন সেন। কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে সৌমেন সেনের নাম চূড়ান্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
কলকাতা হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি হিসেবে প্রায় ২ বছর ৪ মাস এবং বিচারপতি হিসেবে আরও প্রায় বছর দুয়েক দায়িত্বভার সামাল দিয়েছেন বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানস। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দেওয়া বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেই অভিজ্ঞতার কিছু স্মরণীয় অংশ তিনি তুলে ধরেছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সকলের অফুরান সাহায্য ও সহযোগিতা পাওয়ার জন্য।
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন একাধিক মামলায় রাজ্য প্রশাসনকে চূড়ান্ত ভর্ৎসনা করেছেন টিএস শিবজ্ঞানম। রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে স্বল্প বেতনের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের দিয়ে চালানোর জন্য রাজ্য প্রশাসনকে তিনি যেমন কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন, তেমনি কড়া কথা শুনিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শুরু করে রাজ্যের নিম্ন আদালতগুলিতে পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবের জন্যে। ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্রকেও ভর্ৎসনা করতে দেখা গিয়েছে প্রধান বিচারপতিকে ৷
সোমবার হাইকোর্টের শতবার্ষিকী ভবনে আইনজীবী ও বিচারপতিদের উপস্থিতিতে তাঁর বিদায় ভাষণে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম কলকাতা হাইকোর্টে জমে থাকা মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে বছরের পর বছর কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতিদের পদ খালি থাকা নিয়েও মন্তব্য করেছেন। বলেন, ”আমি যখন এখানে এসেছিলাম, তখন আমি তৎকালীন প্রধান বিচারপতির কাছে বার বার বিচারপতিদের নাম সুপারিশ করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। তখন ১৭ জনের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল। এঁদের মধ্যে যদি ১০ জনও আসেন, তাহলেও কলকাতা হাইকোর্টের অন্যান্য বিচারপতিদের দায়িত্বভার কিছুটা কমবে। এত কাজ বাকি… ”।
তাঁর সময়কালে কলকাতা হাইকোর্টের সমস্ত কার্যক্রমের লাইভ স্টিমিং করার কথাও তুলেছেন বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। বলেছেন, বারের সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে এবং এর জন্যে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করাও সম্ভব। বিদায়বেলায় কোনও রকম অনুশোচনা নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
