বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহাগঠবন্ধনের দুই প্রধান শরিক—আরজেডি ও কংগ্রেসের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে দ্বন্দ্ব ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
আরজেডি নেতা ও বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব, যাঁকে জোটের তরফে সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবার সরাসরি চাপ সৃষ্টি করলেন কংগ্রেসের উপর। মুজফ্ফরপুর জেলার কাঁটি এলাকায় এক সভায় তিনি ঘোষণা করেন—
“এইবার তেজস্বী ২৪৩ আসনেই লড়বে, মুজফ্ফরপুর হোক, কাঁটি হোক বা বোচাহন হোক।”
কয়েকদিন আগেই কংগ্রেস তাদের আসন সংখ্যা বাড়ানোর সুর তোলে। রাহুল গান্ধীর ভোটার অধিকার যাত্রা সফল হয়েছে বলে দাবি করে তারা অন্তত ৭০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দাবি জানায়—যেটি ২০২০ সালেও তারা করেছিল। তবে গতবার ৭০ আসনে লড়লেও কংগ্রেস জিতেছিল মাত্র ১৯ টিতে। এর ফলে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আরজেডি ৭৫ আসন জিতেও সরকার গঠন করতে পারেনি।
এরই মধ্যে এআইসিসি–র বিহারের ভারপ্রাপ্ত নেতা কৃষ্ণা আল্লাভারুর “মুখ্যমন্ত্রী জনগণই ঠিক করবে” মন্তব্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। রাহুল গান্ধীও বিহার সফরে তেজস্বীর মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়া নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। এর ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
মহাগঠবন্ধনের বৈঠকে কেবল কংগ্রেস নয়, বিকাশশীল ইনসান পার্টি (মুকেশ সাহানি), বামপন্থী দলগুলি, পশুপতি কুমার পারসের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় লোক জনশক্তি পার্টি এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (হেমন্ত সোরেন)-এর দাবিও বিবেচনা করতে হবে।
আরজেডি মুখপাত্র মৃ্ত্যুঞ্জয় তিওয়ারি বলেন, “তেজস্বী যাদবই মহাগঠবন্ধনের সবচেয়ে স্পষ্ট মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী। তিনি যা বলেছেন, তাতে বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনিই একমাত্র নেতৃত্ব দিতে পারেন। আপাতত আমরা আসন বণ্টন নিয়ে বসছি, পরে নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা হবে।”
তিওয়ারি কংগ্রেসকে স্মরণ করিয়ে দেন যে ২০২০ সালে তেজস্বীর নেতৃত্বেই জোট ২৪৩ আসনের মধ্যে ১১০টি আসন জিতেছিল। তাই প্রধান শরিক হিসেবে আরজেডির অবস্থান মেনে নিতে হবে।
অন্যদিকে, বিহার কংগ্রেসের মুখপাত্র জ্ঞান রঞ্জন গুপ্ত বলেন, “তেজস্বীজি সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান। নেতৃত্বের বিষয়টি কমিটিই ঠিক করবে। প্রথমে আসন বণ্টন আলোচনা হবে। ২৪৩ আসনের জন্য লড়াইয়ের কথা বলে তিনি নিজের অবস্থান জাহির করেছেন। তবে আমাদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই, এনডিএর মতো নয়।”
