বন্ধ থাকা ছাদ রেস্তোঁরা পুনরায় খোলার জন্য বন্ড জমা দেওয়ার সময়সীমা পার হয়েছে। তবে সোমবার শেষদিনে সবমিলিয়ে জমা পড়েছে মাত্র এক তৃতীয়াংশ আবেদনপত্র। অথচ মহানগরী কলকাতার পুর এলাকায় ছাদ রেস্তোঁর রয়েছে কমবেশি ৮৩ টি। পুরকর্তারা তাই আবেদন না করা রেস্তোরাঁ মালিকদের জন্য আরও কিছুটা সময় দিতে চান।
কলকাতা পুরসভার এক কর্তা জানিয়েছেন, যেসব ছাদ রেস্তোরাঁ তাদের প্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলার জন্য এখনও ক্ষতিপূরণ বন্ড জমা দেয়নি, তারা যদি তা জমা দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করে, তাহলে পুরসভা তাদের আপিল বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, “বন্ডটি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার পরেই, আবেদনকারীদের রেস্তোরাঁ পুনরায় খোলার জন্য অস্থায়ী অনুমতি দিচ্ছে কলকাতা পুরসভা। অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এই শর্তে যে, মালিকরা ৩ মাসের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের টাস্ক ফোর্স কমিটির ঘোষিত এসওপি মেনে চলবেন”। প্রসঙ্গত, অগ্নিকাণ্ডের জেরে গত ২ মে থেকেই কলকাতার ছাদ রেস্তোরাঁগুলিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
“যারা অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত SOP মেনে চলতে ইচ্ছুক এবং ক্ষতিপূরণ বন্ড জমা দিতে চান তাঁদের জন্য তারিখ বাড়ানোর জন্য আমরা টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করব। কিন্তু আমাদের কিছু অসাধু রেস্তোরাঁর উপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। যাঁরা বন্ড জমা না দিয়েও তাঁদের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করার চেষ্টা চালাচ্ছেন”। অসাধু ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে সতর্ক করে কড়া বার্তা দিয়েছেন পুর কর্তা।
এদিকে মহানগরীর ছাদ রেস্তোরাঁর মালিকদের বক্তব্য, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের ছাদ রেস্তোরাঁগুলি বন্ধ থাকায়, তাঁরা অনেক বিশ্বস্ত কর্মী হারিয়েছেন। পুজোর মুখে পুনরায় তা চালু করা তাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বলেছেন, “অনেক কর্মী অন্যত্র চাকরি নিয়েছেন। এছাড়াও, নিয়মিত গ্রাহকরা অন্য জায়গা খুঁজে নিয়েছেন। তাই কর্মী এবং গ্রাহকদের ফিরিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ”।
কলকাতার জনপ্রিয় ছাদ রেস্তোরাঁগুলির মধ্যে রুটসই প্রথম পুনরায় চালু হয়েছে। কিন্তু পুজোর মুখে সেখানে গ্রাহকদের ভিড় মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়। রুটস-এর এক কর্তা বলছেন, “পুজোর আগে এমন নাছোড় বর্ষা এবার একটি অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে দুর্গাপুজোর সময় আমাদের গ্রাহকরা আবার ফিরে আসবেন”।
শুধু রুটসই নয়, খুলেছে রোমানিয়া, হ্যাশট্যাগ সহ আরও কয়েকটি ছাদ রেস্তোরাঁ। ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত এক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, মাস তিনেক বন্ধ থাকার ধাক্কা কাটাতে সমস্যায় পড়বে অপেক্ষকৃত ছোট রেস্তোরাঁগুলি। পেশাদার কর্মীর অভাবই তার প্রধান কারণ।
তিনি আরও বলেন, ”কলকাতা পুরসভার নতুন নিয়ম মেনে পুনরায় চালু করাটা এখন মালিকদের কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং। আর এদের মধ্যে বেশ কয়েকটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও অমূলক নয়। তবে কিছু ছাদ রেস্তোঁরা বিকল্প জয়গা খুঁজে নিয়ে নতুন ঠিকানায় ব্যবসা করার দিকে ঝুঁকছে।”
শহরতলির মতোই, মহানগরী কলকাতাতেও দুর্গাপুজোকে ঘিরে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করেন রেস্তোরাঁ মালিকরা। ফলে ছাদ রেস্তোরাঁর পুরনো কর্মী-শেফরা ইতিমধ্যেই কোথাও না কোথাও কাজ করছেন। তাঁদের ফিরিয়ে আনাটাও বড় চ্যালেঞ্জ বন্ধ থাকা ছাদ রেস্তোরাঁর মালিকদের।
