ভারত-পাক বিতর্কের আঁচ থেকে রক্ষা পায়নি বুধবারের পাকিস্তান বনাম সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ম্যাচ। প্রথমে এই ম্যাচ বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছিল পাক ক্রিকেট বোর্ডের তরফে। এর পর অনেক টালবাহানার পর এক ঘন্টা বিলম্বে শুরু হয় খেলা। ফলে গোটা বিষয়টিই কার্যত পরিণত হয়েছে একটি সার্কাসে। বিশেষ করে, এই ম্যাচের আগে পাকিস্তান দলের প্র্যাকটিস সেশন নিয়ে তো চর্চা রীতিমত তুঙ্গে সমাজ মাধ্যমে।
ভারত-পাক ম্যাচে করমর্দন বিতর্ক পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের মধ্যে একটি সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। যা এই মুহূর্তে একটি বড়সড় পরিহাসের বিষয়। জাতীয় গর্ব রক্ষার চেষ্টায় পাক বোর্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ক্রিকেটারদের হতাশা এবং অপ্রয়োজনীয় চাপের মুখে ফেলে দিয়েছে। সব থেকে বড় কথা হল, পাকিস্তান ক্রিকেটে এমনটা নতুন নয়। ইমরান খান, ওয়াসিম আক্রম, ইনজামাম উল হক, মিসবাহ উল হক, সরফরাজ আহমেদ কিংবা বাবর আজম। বোর্ডের খামখেয়ালিপনার শিকার হতে হয়েছে প্রত্যেককেই।
তবে এ বার যেন সবকিছুর সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। রবিবার ম্যাচ শেষে পহেলগাঁওয়ের ঘটনার প্রতিবাদে ভারতীয় দল পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন না করায় ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফ্টের বিরুদ্ধে আইসিসিকে অভিযোগ জানায় পাক বোর্ড। পাইক্রফ্টকে এশিয়া কাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায় তারা। আইসিসি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও শেষ পর্যন্ত অবশ্য পাইক্রফ্ট ক্ষমা চেয়ে নেন। এর পরই পাক বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিরুদ্ধে নামার নির্দেশ দেন দলকে। তিনি ম্যাচ শুরু হওয়ার একঘন্টা আগে দুই পূর্বসূরি রামিজ রাজা এবং নাজম শেঠিকে নিয়ে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন লাহোরে।
সব মিলিয়ে এটাই মনে হচ্ছে, পাক বোর্ড যেন নিজেদের জালেই বল জড়াতে মরিয়া। কারণ, যদি শেষ পর্যন্ত এশিয়া কাপ বয়কট করত, সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের লোকসান হত আনুমানিক ১২ থেকে ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় ১০৫ থেকে ১৪১ কোটি টাকা। বিসিসিআইয়ের মত ধনী নয় এমন একটি বোর্ডের জন্য এটি যে একটি ভয়াবহ আঘাত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে পাক বোর্ডকে তুলোধোনা করেছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার মুরলি কার্তিক। তাঁর কথায়, “আজকাল কিন্ডারগার্টেনের বাচ্চারাও এ রকম আচরণ করে না। তাই এটা একটু মজার। আবারও বলছি, তুমি এত লোককে কোনও কারণ ছাড়াই মুক্তিপণ হিসেবে রাখছ। একেবারেই কোনও ছন্দ বা কারণ ছাড়াই।”
এক ওয়েবসাইটের সঙ্গে আলাপচারিতায় কার্তিক আরও বলেন, “যদি তুমি একটা অবস্থান নিতে চাও, তা হলে দয়া করে এগিয়ে যাও। আমার মনে হয় জীবনে সবারই একটা অবস্থান নেওয়া উচিত। কিন্তু সেটাতেই অটল থাকা উচিত। সেটায় অটল থাকার দৃঢ় প্রত্যয় থাকা উচিত। যেহেতু তুমি দেখছ যে এর পিছনে একটা আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে, অর্থাৎ করমর্দন বা এরকম কিছুর জন্য ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।” অন্যদিকে যদিও পাকিস্তানের জোরে বোলার হারিস রউফ বলেন, “আমি বিষয়টি নিয়ে মাথাই ঘামাইনি। কারণ সেটা আমার হাতে নেই। এগুলি বোর্ডের সিদ্ধান্ত। এটা তাদের মাথাব্যথা। আমাকে ম্যাচটি খেলতে হত, আমার মনোযোগ সেই দিকেই ছিল।”
করমর্দন বিতর্কের পর পাক ক্রিকেটের কঙ্কালসার চেহারাটা যখন নতুন করে ফুটে উঠেছে তখন এর থেকে বেশি আর কীই বা বলতে পারতেন রউফ? উঠছে এই প্রশ্নও। এ দিকে এরই মাঝে বোর্ডের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এবং দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রাক্তন ক্রিকেটার আতিক উজ জামান দাবি করেছেন, পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের অত্যন্ত নিম্নমানের কিট দেওয়া হয়েছে। যার কারণে ঘামছেন তাঁরা। বুধবার ম্যাচ চলাকালীন সমাজ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “যখন টেন্ডারগুলি পেশাদারদের কাছে নয়, বন্ধুদের কাছে যায় তখন এটিই ঘটে। ঘামের চেয়ে দুর্নীতি বেশি ঝরে।” সব মিলিয়ে এক করমর্দন বিতর্কই এক ধাক্কায় সার্কাসে পরিণত করেছে ওয়াঘার ওপারের ক্রিকেটকে।
