নিখোঁজ হয়ে যাওয়া কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ছেলেকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দিল হরিপাল থানার পুলিশ। ছেলেকে ফিরে পেয়ে আপ্লুত বাবা। পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে রীতিমতো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
চলতি মাসের ১ সেপ্টেম্বর নিউ দিল্লির বেরেক হামারার বাসিন্দা বছর ২৪- এর ওই যুবক রুদ্রনাথ সাহু বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর করে ছেলের সন্ধান না পেয়ে বাবা স্থানীয় বারাখাম্বা রোড থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরকম পরিস্থিতিতে বুধবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ হরিপাল বটতলা এলাকায় এক যুবককে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। খবর পেয়ে হরিপাল থানার ওসির উদ্যোগে ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে খোঁজ খবর নিয়ে পুলিশ জানতে পারে ওই যুবকের বাড়ি নিউ দিল্লিতে। হুগলি জেলা গ্রামীণ পুলিশের পক্ষ থেকে নিখোঁজ এই যুবকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৃহস্পতিবার সকালে রুদ্রনাথকে তাঁর বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ওই যুবক রুদ্রনাথ সাহু পড়াশুনায় রীতিমতো মেধাবী। তিনি একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। বাবা আনন্দ সাহু একজন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। পুলিশ জানিয়েছে যখন ওই যুবককে উদ্ধার করা হয় তখন তার মধ্যে কোনও মানসিক স্থিতি ছিল না। এমনকী ওই যুবক তাঁর নিজের নামও বলতে পারছিলেন না। এরকম পরিস্থিতিতে পুলিশ যুবকের পকেট থেকে একটি ফোন নাম্বার উদ্ধার করে। এরপর সেই ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার পরূ জানতে পারা যায় নিউ দিল্লির বাড়ি দিকে গত ১ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন রুদ্রনাথ। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুধবার রাতের ফ্লাইটেই যুবকের বাবা নিউ দিল্লি থেকে কলকাতায় চলে আসেন।
রুদ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারা যায় যে তিনি একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। সম্প্রতি নাসাতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু মেধাবী ওই ছাত্রের কিছু মানসিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ছেলেকে নিয়ে বাবা আনন্দ সাহু সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া ঘুরতে গিয়েছিলেন। ইন্দোনেশিয়া থেকে নিউ দিল্লিতে ফেরার পর রুদ্রনাথ তাঁর বাবা-মাকে বলেছিলেন একটু ঘুরে আসছি। এরপরই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তারপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন ওই যুবক। কীভাবে হরিপাল পর্যন্ত এসে পৌঁছালেন রুদ্রনাথ সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি ওই যুবক।
পুলিশের অনুমান কোনওরকমে নিউ দিল্লি থেকে এক্সপ্রেস ট্রেন ধরে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন রুদ্রনাথ। তবে পরিবারের কাছে সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পেরে খুশি হুগলি জেলা গ্রামীণ পুলিশের আধিকারিক ও কর্মীরা। পুলিশ যে শুধু অপরাধীদেরই ধরে তা নয়, মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে যে নতুন জীবনের আলো দেখান তারই নজির স্থাপন করল হুগলি জেলা গ্রামীণ পুলিশ।
