পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক উপাদান তৈরিতে নজরকাড়া সাফল্য জাপানের কোবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের। ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে এমন প্লাস্টিক তৈরি করা হয়েছে, যেটি বিষাক্ত বর্জ্য যেমন এড়ায়, তেমনি ক্ষতিকারক উপাদানগুলিকে ভেঙে দিয়ে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেয়। যার ফলে পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক পণ্যের প্রয়োজনীয়তাও ক্রমশ কমবে। কোবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্রটি মেটাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
জলের বোতল থেকে শুরু করে নানান মাপের কৌটো, প্লেট-বাটি-চামচ থেকে গৃহস্থালির নানান সামগ্রী, দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের ব্যবহার ব্যাপক। তবে প্লাস্টিক কিন্তু পরিবেশের পক্ষে যথেষ্ট ক্ষতিকর। বিশ্বব্যাপী দূষণ বেড়ে চলেছে এর ব্যাপক ব্যবহারে। এই প্রেক্ষিতেই পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক ব্যবহারের গুরুত্ব ক্রমশই বাড়ছে।
আরও পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক উপাদান তৈরিতে জাপানের কোবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পথ দেখিয়েছেন ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে। পাইরিডিনেডি কারবক্সিলিক অ্যাসিড (PDCA) নামক উপাদানটি প্লাস্টিকের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়, তবে PET প্লাস্টিকের টেরেফথালিক অ্যাসিডের মতো ক্ষতিকারক উপাদানগুলিকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। PDCA একদিকে যেমন পচনশীল, তেমনি নাইট্রোজেন-ভিত্তিকও।
আগেকার পদ্ধতিতে PDCA বিষাক্ত বর্জ্য তৈরি করেছিল এবং এর ফলনও কম ছিল। কিন্তু জাপানি গবেষকদের তৈরি নতুন কৌশলটিতে উৎপাদন সাত গুণ বৃদ্ধি করেছে এবং বিষাক্ত উপজাতগুলিও অপসারণ করেছে। বিজ্ঞানীরা Escherichia coli তথা E.coli ব্যাকটেরিয়া পরিবর্তন করে এটি অর্জন করেছেন। তাঁরা ব্যাকটেরিয়াকে গ্লুকোজ খাইয়ে এবং একটি পরিষ্কার জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে PDCA তৈরিতে সাহায্য করার জন্য বিশেষ এনজাইমও যোগ করেছেন।
ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক তৈরির প্রক্রিয়াটিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল। কারণ উৎপাদনের সময় একটি নতুন ক্ষতিকারক উপজাত দেখা দেয়। সেটি ঠিক করার জন্য, গবেষকরা পাইরুভেট যোগ করেছেন, যা সমস্যা সমাধানে সাহায্য করেছে কিন্তু শিল্প ব্যবহারের জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি করার সময় নতুন সমস্যাও তৈরি করতে পারে।
মোটের উপর জাপানি গবেষকদের গবেষণাটি আরও টেকসই, জৈব পচনযোগ্য প্লাস্টিক তৈরির দিকে নতুন দিশা দেখিয়েছে। গবেষক দলটি বিশ্বাস করে, তাদের নতুন পদ্ধতি পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক প্লাস্টিকের উপর নির্ভরতা কমাতে এবং দূষণ সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট অবদান রাখবে।
