চিরকালই সুবক্তা, বিবেচক ও সঠিক সিদ্ধান্তের মানুষ হিসেবে সুনাম আছে বারাক ওবামার। জনপ্রিয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবেও পেয়েছেন বিভিন্ন ধরণের মানুষের ভালবাসা।এবার সেই ওবামাই চার্লি কার্ক হত্যার পর দেশকে আরও বিভক্ত করার অভিযোগ তুললেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।ওবামা অভিযোগ করেছেন, কার্ক হত্যার পর ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীরা প্রতিপক্ষদের ‘পোকা-মাকড়’ বা ‘শত্রু’ বলে অভিহিত করছেন।তাঁর অভিযোগ এতে রাজনৈতিক হিংসা বাড়ছে। আক্রমণ নেমে আসছে বিরোধীদের উপর।
অ্যারিজোনা ভিত্তিক ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর’ প্রতিষ্ঠাতা চার্লি কার্ক ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। চার্লি খুন হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন ‘র্যা ডিক্যাল লেফট’ -এর বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, প্রশাসন এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক ভাবে যারা বিরোধী তাঁদের দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।
মঙ্গলবার পেনসিলভানিয়ার ইরি শহরে জেফারসন এডুকেশন সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে বারাক ওবামা বলেন যে এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হল আমরা যেন ভিন্নমত পোষণ করতে পারি।কখনও তীব্র বিতর্কিত অবস্থাতেও হিংসার আশ্রয় না নিই।
যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প ওবামার বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরেরই মানুষ।হোয়াইট হাউস ওবামার বক্তব্যের জবাবে তাঁকে আমেরিকার আধুনিক রাজনৈতিক বিভেদের প্রবর্তক বলে কটাক্ষ করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের অভিযোগ ওবামা প্রতিটি সুযোগ ব্যবহার করেছেন আমেরিকানদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে। অভিযোগ তাঁর প্রেসিডেন্সির পর অনেকেই মনে করেছিল যে তিনি দেশকে ঐক্যবদ্ধ না করে বিভক্ত করেছেন।
কার্কের বহু অবস্থানের সঙ্গে একমত ছিলেন না তবুও তাঁর মৃত্যুর পরপরই ওবামা এক্স -এ পোস্ট করে স্ত্রী মিশেলের সঙ্গে কার্কের পরিবারের জন্য প্রার্থনা জানান। তিনি লেখেন,“এ ধরনের ঘৃণ্য হিংসার কোনো স্থান আমাদের গণতন্ত্রে নেই।”
তবে চার্লির মৃত্যুর পর আমেরিকায় যা হচ্ছে তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওবামা।তিনি বলেছেন, “ক্ষমতার এমন ব্যবহার আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে কখনও করিনি, জর্জ বুশও করেননি। হঠাৎ করে নিয়ম আর মানা হচ্ছে না।এটাই এই মুহূর্তকে বিপজ্জনক করে তুলছে।”
Leave a comment
Leave a comment
