উপেন্দ্রনাথ কল্ল্যা, চুঁচু়ড়া
আজ মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে সূচনা হল দেবীপক্ষের। শাস্ত্র মতে, এই দিনেই দেবী দুর্গার চক্ষুদান হয়। যদিও থিম পুজোর ব্যস্ততায় অনেক ক্ষেত্রেই মহালয়ার আগেই প্রতিমার চোখ আঁকার কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়, তবে হুগলির চুঁচুড়া গড়বাটির পটুয়াপাড়ায় এবারও রীতিমতো নিয়ম মেনেই হল চক্ষুদান। মৃৎশিল্পী লাল্টু পাল ও তাঁর কন্যা মৌপিয়া পাল মহালয়ার সকালেই দেবীর চোখ আঁকলেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি এক অনন্য নজিরও তৈরি হয়েছে।
করোনাকালীন লকডাউনের সময় এই বিশেষ অধ্যায়ের সূচনা। সেই সময় শিল্পী না পাওয়ায় লাল্টু পাল বাধ্য হয়ে মাত্র ১২ বছর বয়সী মেয়েকে চক্ষুদানের কৌশল শেখাতে শুরু করেন। নিয়মিত অনুশীলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে মৌপিয়ার হাতের নিখুঁত টান। বর্তমানে সে ১৮ বছর বয়সে পৌঁছে গেছে এবং এরই মধ্যে গড়ে তুলেছে নিজের আলাদা পরিচিতি। এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও পড়াশোনার পাশাপাশি সমানতালে ধরে রেখেছে শিল্পচর্চা। সম্প্রতি তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ করে মাত্র তিন দিনের মধ্যেই সে দশটি প্রতিমার চোখ এঁকেছে। এখন অনেক প্রতিমাশিল্পী ও পুজো উদ্যোক্তা বিশেষভাবে মৌপিয়ার হাতেই দেবীর চোখ আঁকানোর জন্য অনুরোধ করেন।
মেয়ের এই কৃতিত্বে অত্যন্ত খুশি বাবা লাল্টু পাল। তাঁর কথায়, “এত অল্প বয়সে এমন নিখুঁত কাজ করতে পারবে, তা ভাবিনি। এখন মৌপিয়ার জন্যই আমার বরাত বাড়ছে।” স্থানীয়রাও খুশি মৌপিয়ার সাফল্যে। তাঁদের মতে, মেয়ের প্রতিভা শুধু বাবাকে নয়, গোটা এলাকা তথা শিল্পকেই গর্বিত করেছে। মহালয়ার দিনে তাই চুঁচুড়ার পটুয়াপাড়ায় দেবীর চক্ষুদান হয়ে উঠল আরও অর্থবহ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত।
