বারবার বন্ধু বলে উল্লেখ করেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে ভাবে ভারতের বিরুদ্ধেই যায় এমন একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তা নিয়ে মোদিকে কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি কংগ্রেস। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ইতিমধ্যেই অত্যন্ত দুর্বল বলে কটাক্ষ করেছেন রাহুল গান্ধী। অন্যদিকে এইচ-১বি ভিসার জন্য বছরে এক লক্ষ ডলার নেওয়াটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘জন্মদিনের উপহার’ বলে উপহাস করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
খাড়গে দাবি ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয়রা চূড়ান্ত ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কারণ ৭০ শতাংশ এইচ-১বি ভিসাধারীরা ভারতীয়। তিনি মোদি-ট্রাম্পের সৌহার্দ্য নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন—“বিয়ার হাগ আর ফাঁপা স্লোগান বিদেশনীতি নয়। বিদেশনীতি হল জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা; ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ রাখা এবং বুদ্ধি ও ভারসাম্যের সঙ্গে বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”
কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের এমন কটাক্ষের জবাব দিতে আসরে নামেন প্রাক্তন বিদেশ সচিব কানওয়াল সিবাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “ট্রাম্পের ভারতের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক পদক্ষেপের জন্য মোদিকে দোষারোপ করাটা বিদেশি চাপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বদলে আমাদের প্রতিরোধকেই দুর্বল করে। ট্রাম্প ইউরোপ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, মেক্সিকো সবার সঙ্গেই দুর্ব্যবহার করেছেন।ট্রাম্প ভেবেছিলেন ভারতের উপর সহজেই নিজের মত চাপিয়ে দিতে পারবেন। আমাদের প্রতিরোধ তার অহংকারে ধাক্কা দেওয়ায় এই দমননীতির প্রকাশ।”
কানওয়াল সিবাল প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা কি চান ভারত মার্কিন জিএমও ফসল বা দুগ্ধজাত পণ্য আমদানির দরজা খুলে দিক? বিদেশি চাপে দেশের ঐক্যই এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।আর কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এইভাবে ব্যাট করার পরেই কানওয়ালকে সোশ্যাল মিডিয়াতেই সমর্থন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু।কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তাঁর পোস্ট শেয়ার করে তিনি লেখেন, “কানওয়াল সিবাল অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত, সংযত ও পণ্ডিত কূটনীতিক, যিনি তীক্ষ্ণ ও যথার্থ মতামতের জন্য পরিচিত। আমি বুঝতে পারছি তার কষ্ট, যা তাকে কংগ্রেস সভাপতিকে এই উপযুক্ত পরামর্শ দিতে বাধ্য করেছে। রাজনীতির জন্য যথেষ্ট সময় আছে, কিন্তু যখন জাতীয় স্বার্থের কথা আসে, তখন আমাদের সবার উচিত ভারতের পক্ষ নেওয়া।”
Leave a comment
Leave a comment
