নবরাত্রির প্রাক্কালে রবিবার বিকেলে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “আগামীকাল সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হচ্ছে মা শক্তির আরাধনার উৎসব নবরাত্রি। আমি সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। নবরাত্রির প্রথম দিনেই ভারত আত্মনির্ভরতার পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে—চালু হচ্ছে নেক্সট জেনারেশন জিএসটি সংস্কার। দেশজুড়ে ‘জিএসটি সাশ্রয় উৎসব’ শুরু হচ্ছে সোমবার থেকেই।
ঐতিহাসিক জিএসটি ২.০ তে কী কী বদল আসছে :
•প্রধানমন্ত্রী জানান, নতুন জিএসটি ২.০-এর মাধ্যমে কর কাঠামো আরও সরল হচ্ছে।
•আগের চারটি স্ল্যাব (৫%, ১২%, ১৮% ও ২৮%) কমিয়ে আনা হয়েছে মাত্র দুটি স্ল্যাবে— ৫% ও ১৮%।
•বিলাসদ্রব্য ও ক্ষতিকর পণ্য যেমন তামাক, মদ ইত্যাদির জন্য আলাদা ৪০% কর রাখা হয়েছে।
•প্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন কফি, ঘি, পনির, বিস্কুট, তেল, জুস, ওষুধ ও গৃহস্থালির পণ্য আরও সস্তা হবে।
•নতুন গাড়ি সস্তা হবে এবং স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামও কমবে।
•এতে সাধারণ মানুষের খরচ কমবে এবং উৎসবের মরশুমে ভোগব্যয় বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘জিএসটি সাশ্রয় উৎসব’। তাঁর কথায়, “আগামীকাল থেকে সারা দেশে সঞ্চয়ের এক উৎসব শুরু হচ্ছে। আপনার সঞ্চয় বাড়বে, আপনি সহজেই পছন্দের জিনিস কিনতে পারবেন। গরিব, কৃষক, নারী, যুবক, ব্যবসায়ী—সবার জন্যই উপকার বয়ে আনবে এই সংস্কার।”
মোদী বলেন, “চলতি বছরে আয়করের যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে নতুন জিএসটি সংস্কার যোগ হলে দেশের মানুষ প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় করবেন। বার্ষিক ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় এখন করমুক্ত। প্রায় ৯৯% দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস এখন ট্যাক্স ফ্রি অথবা মাত্র ৫% স্ল্যাবের আওতায়। গরিব, নব-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা এই সংস্কার থেকে দ্বিগুণ লাভ পাবেন।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, “২০১৪ সালে যখন আমি দায়িত্ব পেলাম, তখন একটি আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র একটি উদাহরণ ছাপিয়েছিল। বেঙ্গালুরুর একটি সংস্থা জানিয়েছিল, তাদের পণ্য ৫৭০ কিমি দূরে হায়দরাবাদে পাঠানো ছিল এতটাই কঠিন, যে তারা আগে ইউরোপে পাঠিয়ে আবার সেখান থেকে হায়দরাবাদে আনত। এমন ছিল কর ব্যবস্থার জটিলতা।”
তিনি বলেন, “আগে এন্ট্রি ট্যাক্স, সেলস ট্যাক্স, এক্সসাইজ, সার্ভিস ট্যাক্স, ভ্যাট—নানা করের ফাঁদ ছিল। আমরা সব দূর করেছি। একটিমাত্র কর—জিএসটি চালু করেছি। এবার আরও সরলীকরণ করা হলো। এতে ব্যবসার গতি বাড়বে, বিনিয়োগ আসবে এবং ভারতের উন্নয়ন আরো গতি পাবে।”
মোদী বলেন, “মা দুর্গার আশীর্বাদে নবরাত্রির প্রথম দিনেই ভারত আত্মনির্ভরতার এক নতুন অধ্যায় শুরু করছে। এই সংস্কার শুধু অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে না, প্রতিটি পরিবারে সুখ বয়ে আনবে এবং প্রতিটি নাগরিককে ক্ষমতায়িত করবে।
জিএসটি ২.০ সংস্কারকে দেশবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রী ‘ঐতিহাসিক উৎসব’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং প্রতিটি রাজ্যকে জাতীয় উন্নয়নের সমান অংশীদার করবে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি রাজ্যকে আঞ্চলিক পণ্যের উৎপাদনে উৎসাহ বাড়াতে আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার করতে এবং ব্যবসায়ী, দোকানদার, বিক্রেতাদের দেশীয় পণ্যের বিক্রয় বাড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

