বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হল ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি থমকে থাকা আলোচনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
বাণিজ্য মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েল যুক্তরাষ্ট্রে বৈঠক করবেন। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যচুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার দিকেই এই বৈঠকের লক্ষ্য।”
এর আগে, ১৬ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বাণিজ্য মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ আগরওয়ালের নেতৃত্বে একদল কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারি বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ। মন্ত্রক সূত্রে খবর, বৈঠকে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয় এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে ভারতে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীকে আমেরিকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্য মন্ত্রক বলেছে, “উভয় দেশই ইতিবাচক ও ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। শীঘ্রই একটি পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে প্রচেষ্টা জোরদার করা হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইতিবাচক বার্তায় এই বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে বলে জানিয়েছেন।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একতরফা শুল্কনীতির কাছে মাথা নত করেনি ভারত। শনিবার গুজরাতে এক জনসভায় আত্মনির্ভর ভারতের স্লোগান তুলে প্রধানমন্ত্রী মোদি আবারও বলেছেন, অন্য দেশের প্রতি বাণিজ্যিক নির্ভরতা ভারতের প্রধান দুর্বলতা। ভারতীয় পণ্যের আমদানিতে ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপালেও ভারতের বিশাল বাজারের দিকে তাকিয়ে শেষ পর্যন্ত সুর নরম করতে বাধ্য হচ্ছেন ট্রাম্প। বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের মার্কিন সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ‘ট্রাম্প শুল্কনীতি’ নিয়ে কোন আশু সমাধান হয় কিনা।
