কলকাতা যখন মা দুর্গাকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই পিকনিক গার্ডেনের ৩৯ পল্লি মনে করিয়ে দিল, দুর্গাপুজো সবার জন্য। এ বছরের তাদের থিম “আমরাও পারি”, যার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা ও সৃজনশীলতা এসেছে ডাউন সিন্ড্রোমে আক্রান্ত শিশুদের হাত ধরে।
সমাজ যেখানে তাঁদের বিশেষভাবে সক্ষম শিশু হিসেবেই দেখে, সেখানে এই প্যান্ডেল ঝলমল করছে তাঁদের অনন্য হাতের কারুকাজে। প্রতিটি কোণে ফুটে উঠছে তাঁদের ভাবনা, কল্পনা আর পুজো উদযাপনের আনন্দ।
শিল্পী স্নেহাশিস দাস, যিনি শিশুদের পথপ্রদর্শক ছিলেন, বলেন, “ওরাই মা দুর্গার চোখ এঁকেছে। আমি চাই সবাই দেখুক, ওরা কী করতে পারে। অনেকেই বলেছিল, এরা কী কাজ করবে? আমি সেটাকেই আমার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আজ পুরো প্যান্ডেল ওদের সৃষ্টিতে আলোকিত।”
প্রতিটি তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠেছে শিশুদের আনন্দ। সমাজ যেখানে তাদের প্রতি সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকায়, সেখানে এই প্যান্ডেল দেখিয়েছে তাদের সৃষ্টিশীলতা, কল্পনার জগৎ। প্রতিমার চোখ, প্যান্ডেলের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে রঙিন ক্যানভাস, সর্বত্রই ছড়িয়ে রয়েছে তাদের শিল্পভাবনা।
প্যান্ডেল কমিটির সভাপতি গৌতম রায় চৌধুরী বলেন, “আমার নিজের প্রতিবেশীর সন্তান থেকেই অনুপ্রেরণা এসেছে। এ বছর পুরো সাজসজ্জা ওদের তৈরি। ওদের হাসিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমাদের বাজেট ছোট হলেও, ওরা যা করেছে তা অমূল্য। আমি মনে করি না কোনও দুর্গাপুজো বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের নিয়ে এমনভাবে ভাবে।”
প্যান্ডেলে ফুটে উঠেছে ডাউন সিন্ড্রোম আক্রান্ত শিশুদের জীবনের পথচলা— তাদের চ্যালেঞ্জ, সংগ্রাম আর সমাজে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার গল্প।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সংবেদন’ এই উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছে। সংগঠনের সম্পাদক সমিত সাহা বলেন, “ওরা সবকিছু করতে পারে, শুধু প্রয়োজন একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার। আমরা ধন্যবাদ জানাই প্যান্ডেল কমিটিকে এমন সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।”
শিশুদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো— হাতে তুলি, মায়ের চোখ আঁকার আনন্দ। মহালয়ার সঙ্গে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ, আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে পূর্ণাঙ্গ উৎসব। এ বছর ৩৯ পল্লির দুর্গোৎসব তাই কেবল পুজো নয়, এক অনন্য সামাজিক বার্তাও বহন করছে।
