দুর্গাপুজোর থিমে বিবাহ বিচ্ছেদের অভিঘাত। যা সরাসরি প্রভাব পড়ে সন্তানের মনেও। উৎসবমুখর আবহে মন কেমন করা এমন বিষয়কেই পুজোর থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে লেকটাউনের গোলাঘাটা সম্মিলিনী। সর্বজনীন পুজোটি এবার তাদের ৪৭তম বর্ষ উদযাপন করছে। সম্পর্ক-ভাঙনের যন্ত্রণা ঘিরে সচেতনতার বার্তা দিতে চান পুজো কমিটির সদস্যরা।
পুজো উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, ‘ব্রেক ফেল’ বা বিবাহবিচ্ছেদ শুধু দুটি মানুষেরই বিচ্ছেদ নয়, এর প্রভাব পড়ে দুটি পরিবারের ওপর। বিশেষ করে গভীর আঘাত হানে তাঁদের ছেলে-মেয়েদের মনে। দুই প্রাপ্তবয়স্ক হয়ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, কিন্তু সন্তানকে সেই পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে হয় চুপচাপ। ছোট বলেই হয়ত মা কিংবা বাবার কাছে নিজের ভাবনাটাও তুলে ধরতে পারে না ঠিকঠাক।
গোলাঘাটা সম্মিলনীর মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সম্পর্ক-ভাঙনের নানা ছবি। প্যান্ডেলের ভিতরে তৈরি বিশালাকৃতির তিনটি মুখ। নারী, পুরুষ, এবং মাঝখানে এক শিশু। প্রতিটি মুখেই ফুটে উঠছে যন্ত্রণা, হতাশা আর অজানা ভবিষ্যতের আতঙ্ক। করাত, খাঁচা, কাঁটার মতো প্রতীক দিয়ে বোঝানো হচ্ছে ভাঙনের যন্ত্রণা। মণ্ডপজুড়ে সাজানো পোস্টারে লেখা ‘বিপন্ন ভবিষ্যৎ’, ‘নতুন ছাদের সন্ধানে’, ‘পৃথিবীর কঠিন ব্যাধি’।
মণ্ডপসজ্জায় কিছু ফটো ইনস্টলেশনও করা হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে এক দম্পতির বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘিরে কিছু মুহূর্ত, কোথাও চুপ করে বসে থাকা সন্তান, কোথাও খালি ঘর, কোথাও বা শুধু একটা চিঠি। এখানে পুজো দেখতে এলে দর্শনার্থীরা শুধু বাহারি মণ্ডপসজ্জাই দেখবেন না, ভাববেনও। একটা সম্পর্ক ভাঙলে, কে জেতে! কী কী হারায়! এই প্রশ্নই যেন ঘুরে ফিরে ধাক্কা দেয় তাঁদের মননে। পুজো উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা এতটুকুই।
লেকটাউন গোলাঘাটা সম্মিলনীর সম্পাদক শঙ্কর সরকার বলেছেন, ‘এবারের পুজোয় আমরা কিন্তু চমক দিতে চাইনি, বরং বার্তা দিতে চেয়েছি। আজকের সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে, কিন্তু তার সঙ্গে জুড়ে থাকা শিশুমনের ভিতরের ভাঙন কেউ দেখে না। সেই দিকেই আমাদের থিমের দৃষ্টি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিবাহ বিচ্ছেদের বিরোধিতা করার চেষ্টা কিন্তু আমরা করছি না। আমরা কেবল বলতে চাইছি যে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দম্পতির গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত, যাতে তাঁদের সন্তানরা কষ্ট না পায়”।
দুর্গাপুজোর মহোৎসবে মহানগরীর মণ্ডপে এমন সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সচেতনতার বার্তা ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে একাংশ দর্শনার্থীদের। লেকটাউন গোলাঘাটা সম্মিলনীর প্রত্যাশা, পুজোর দিনগুলিতে অন্যান্যবারের থেকেও বেশি জনসমাগম হবে তাদের মণ্ডপে।
