বুদ্ধদেব পাত্র, পুরুলিয়া
পুরুলিয়া শহরের নামোপাড়ায় স্বাধীনতা সংগ্রামী নীলকন্ঠ চট্টোপাধ্যায়ের পারিবারিক দুর্গাপুজো আজও এক বিশেষ আবেগে ভরিয়ে তোলে স্থানীয়দের। নীলকন্ঠবাবু ছিলেন পুরুলিয়া পুরসভার প্রথম বেসরকারি চেয়ারম্যান ও জেলা আদালতের প্রখ্যাত আইনজীবী। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তার বাড়িতেই এসেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ১৯৩৯ সালের সেই ঐতিহাসিক সফরের ছবিটি আজও ঝলমল করছে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের বাড়ির দেওয়ালে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই পুজোর সূচনা মুঘল আমলে, জাহাঙ্গীরের সময়ে বারাসত থেকে। পরে অমরাগড় হয়ে পেশাগত কারণে পরিবার পুরুলিয়ায় আসে। সেখানেই শুরু হয় এই পুজো, যার বয়স ইতিমধ্যেই ৪০০ বছর অতিক্রম করেছে। তবে পুরুলিয়া শহরে টানা ৯৫ বছর ধরে এই দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই পুজো ঘিরে রয়েছে বহু ঐতিহ্য। আশপাশের অন্যান্য পুজো সত্ত্বেও বিসর্জনের সময় শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেয় নীলকন্ঠ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের প্রতিমা। এই নিয়মের কোনও পরিবর্তন হয়নি আজও। পরিবারের সদস্যরা যে যেখানেই থাকুন না কেন, দুর্গোৎসবের পাঁচদিন সকলে মিলিত হন এক ছাদের নীচে, আনন্দ ও মিলনের আবহে পুজো উদযাপন করেন।
শুধু পরিবারের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয় এই পুজো। প্রতিবেশীদের কাছেও এর আবেগ অন্য মাত্রা পায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য। একসময় এখানে সংগীত পরিবেশন করেছেন সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় ও উৎপলা সেনের মতো কিংবদন্তি শিল্পীরা। সেই ধারা বজায় রাখতে এবার আসছেন শ্যামল মিত্রের ছেলে, বিশিষ্ট গায়ক সৈকত মিত্র।
আজ তৃতীয়া। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। প্রতি বছরের মতো এবারও সুষ্ঠুভাবে পুজো সম্পন্ন করতে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন নীলকন্ঠ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যরা। স্বাধীনতা সংগ্রামীর বাড়ির দুর্গোৎসব আজও ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আবেগের মিলনক্ষেত্র হয়ে রয়েছে পুরুলিয়া শহরে।
