উৎসবের আকাশে এখন কালো মেঘ আর বৃষ্টির দাপট। জল থইথই কলকাতা, একটু থিতু হতে না হতেই ফের ভিজছে বৃষ্টিতে। স্বভাবতই সর্বজনীনের মণ্ডপে ব্যাহত হচ্ছে শেষ মুহূর্তের বকেয়া কাজ। গোটা শহরবাসীর মতোই, মন ভাল নেই পুজো উদ্যোক্তাদের।
পঞ্জিকা মতে দেবীপক্ষের চতুর্থী। অথচ প্যান্ডেল হপারদের সেই মাত্রাছাড়া ভিড় এখনও দেখা যাচ্ছে না বিগ বাজেটের পুজোমণ্ডপে। অনেক সর্বজনীনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পর্বও এখনও চলছে। যার কারণেই সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকারে রয়েছে কিছু বিধিনিষেধ। তবে অত্যুৎসাহীর দল তারই মধ্যে বেরিয়ে পড়েছে পুজো পরিক্রমায়। বৃষ্টি-অসুরকে ঠেকাতে সঙ্গে রয়েছে ছাতা কিংবা বর্ষাতি। জমা জলের পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি, পুজো পরিক্রমার নতুন ট্রেন্ড।
পুজোর কলকাতায় নজিরবিহীন বৃষ্টি হয়েছে গত সোমবার রাতে। গোটা মঙ্গলবার একরকম জলমগ্ন ছিল বৃহত্তর কলকাতার প্রায় সব পুজো মণ্ডপ। বুধবার দুপুরের পর থেকে জল নামলে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মেরামতির কাজ চলছে উত্তর থেকে দক্ষিণ জুড়ে। বৃষ্টির জলে নষ্ট হয়ে যাওয়া মণ্ডপসজ্জাকে আবার আগের মতো ফিরিয়ে আনার চেষ্টায়।
অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় জমে থাকা জলে প্রতিমারও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিস্তর। সেখানে কোথাও পটুয়াপাড়া থেকে নতুন করে আনতে হয়েছে প্রতিমা। কোথাও আবার মৃৎশিল্পীদের সাহায্যে গলে যাওয়া অংশ নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। জোড়া লাগা অংশে পড়ছে রঙের প্রলেপ। মাতৃমূর্তির আগের রূপ নষ্ট হওয়ার দুঃখ বুকে চেপেই তা দেখতে হয়েছে পুজো কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের।
নিম্নচাপের নাছোড় বৃষ্টি দুঃশ্চিন্তা বাড়িয়েছে সর্বজনীনে আলোকসজ্জার নেপথ্যে থাকা ইলেকট্রিশিয়ানদের। জলমগ্ন শহরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর টাটকা স্মৃতি মাথায় নিয়েই তাঁদের কাজ করতে হচ্ছে দিনরাত একাকার করে। সজাগ থাকতে হচ্ছে অগ্নি নিরাপত্তা দিকটাতেও। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে এবার বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে সর্বজনীন পুজোমণ্ডপগুলি।
জল জমে থাকার কারণে মহানগরীর বেশ কিছু সর্বজনীনের প্রবেশপথে বেছানো হয়েছে কাঠের পাটাতন। চেতলা অগ্রণীতে বেরনোর পথের তেমন প্ল্যাটফর্মের একাংশ বৃহস্পতিবার বিকেলে ভেঙে পড়েছিল। মণ্ডপের ভেতরে ঝাড়বাতি থেকেও আগুনের স্ফুলিঙ্গ আতঙ্ক ছড়ায় এখানে। মোবাইল ফায়ার টেন্ডার ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন এবং স্ফুলিঙ্গ নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্যোক্তারা সতর্ক থাকায় বড় কোনও অঘটন ঘটেনি। তবে তারপর থেকেই খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে মণ্ডপের আসা ও যাওয়ার পথ, মণ্ডপসজ্জার বিদ্যুতিক সংযোগ।
দেশপ্রিয় পার্কের পুজোতেও কাঠের পথের একাংশ বৃহস্পতিবার ভেঙে পড়েছিল। সেখানে নতুন করে ফের তক্তা লাগাতে হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ভিড়। বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজকরা প্যান্ডেল হপারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন বৃহস্পতিবার। বড় আকারের মেরামতির কাজ চলার জন্য গোটা দিনই তাদের মণ্ডপ একরকম বন্ধ রাখতে হয়েছিল বলে।
মধ্য কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে ভিড়ের চেনা ছবি সকাল থেকেই। শুক্রবারই তাদের পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এখানে গোটা মাঠটাই একরকম কাঠের প্ল্যাটফর্ম দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। যাতে বৃষ্টি এলেও প্যান্ডেল পরিদর্শনে কোনও বাধা যেন না পড়ে।
