
এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) প্রকাশিত প্রাথমিক রিপোর্টের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছে এয়ারলাইন পাইলটস’ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এএলপিএ ইন্ডিয়া)।পাইলট সংগঠনের দাবি, রিপোর্টটি তাড়াহুড়ো করে ও চাপের মুখে তৈরি হয়েছে এবং এতে ব্যবহৃত ভাষা বিভ্রান্তিকর। শুক্রবার দিল্লিতে এএআইবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এএলপিএ ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা রিপোর্টে উল্লিখিত ককপিট ভয়েস রেকর্ডার-এর অডিয়োর প্রসঙ্গেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এএলপিএ-র স্যাম থমাস বলেন,”রিপোর্টের ভাষা ব্যাখ্যার জন্য খোলা ছিল, ফলে অপ্রয়োজনীয় জল্পনা তৈরি হয়েছে। সবাই একে অপরকে ক্লিন চিট দিতে চাইছিল। চাপের কারণে রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ করা হয়েছে। এটি আরও ভালো হতে পারত।”তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক রিপোর্টের কাজ হল কেবল ঘটনার তথ্য উপস্থাপন করা, দোষারোপ নয়। এছাড়াও সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে কেন রিপোর্টে স্বাক্ষর ছিল না।এএআইবি জানিয়েছে, আইনের কারণে এএলপিএ ইন্ডিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়, তবে তারা বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে সহযোগিতা করতে পারেন।
এএআইবিরিপোর্টে যা উঠে এসেছে (জুলাই প্রকাশিত):•আহমেদাবাদ থেকে টেক অফের ৩ সেকেন্ডের মাথায় বিমানটির দুই ইঞ্জিনেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।•বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ “রান” থেকে হঠাৎ “কাট অফ” অবস্থায় চলে যায়।•ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে-এ এক পাইলটকে প্রশ্ন করতে শোনা যায়—“তুমি কেন ফুয়েল বন্ধ করলে?”—অন্য পাইলট বলেন, “আমি করিনি।”•ইঞ্জিন সাময়িকভাবে পুনরুদ্ধার করলেও স্থিতিশীল হতে ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
এএআইবি এখনও স্পষ্ট করেনি, ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের এই পরিবর্তন অকস্মাৎ না ইচ্ছাকৃত ছিল। ঘটনাস্থলে নিহত পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সবরওয়াল (৫৬), যাঁর মোট ১৫,৬৩৮ ঘণ্টা উড়ান অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁর সহকারী পাইলট ছিলেন ক্লাইভ কুণ্ডার (৩২), যার অভিজ্ঞতা ছিল ৩,৪০৩ ঘণ্টা।প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশের পর থেকেই পাইলট সংগঠন অভিযোগ করছে যে তদন্তের ধারা দেখে মনে হচ্ছে এটি পাইলটদের দোষী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করছে।
