
ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক উত্তেজনা এবার গুজরাতের আন্তর্জাতিক সীমানায়। চলতি সপ্তাহে গুজরাতের ‘স্যার ক্রিক’ অঞ্চলে পাকিস্তানের সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ভারতের ভূখণ্ড, বিশেষ করে স্যার ক্রিকের অংশ দখলের চেষ্টা হলে এমন জবাব দেওয়া হবে যা পাকিস্তানি ইতিহাস ও ভৌগোলিক মানচিত্র বদলে দেবে।”তিনি বলেন, “ভারত শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষপাতী হলেও পাকিস্তানের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট ও ভ্রান্ত।”
সাম্প্রতিক সময়ে গুজরাতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বাঙ্কার, রাডার, ও ফরোয়ার্ড বেস নির্মাণ, যেখান থেকে ড্রোন হামলা বা সেনা অভিযানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা পাকিস্তানের কৌশল স্পষ্ট করে দিচ্ছে।অপারেশন সিন্দুরের পর থেকে এবং ১৯৭১ সালের পর প্রথম সরাসরি সশস্ত্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে নিরাপত্তা মহল।
স্যার ক্রিক কী ?
স্যার ক্রিক প্রায় ১০০ কিলোমিটার লম্বা একটি জলপথ, গুজরাতের কচ্ছের রান ও পাকিস্তানের সীমানায় জোয়ারভাটার মোহনায় অবস্থিত। এটি দুই দেশের আনুষ্ঠানিক পশ্চিমতম সীমান্ত। তবে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দ্বন্দ্ব বহু পুরনো।পাকিস্তান ১৯১৪ সালের এক চুক্তির দোহাই দিয়ে বলে, আন্তর্জাতিক সীমানা ক্রিকের পূর্ব তীরে। অন্যদিকে ভারত ১৯২৫ সালের মানচিত্র ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত “থ্যালওয়েগ” নীতির ভিত্তিতে দাবি করে, মূল জলপথের গভীরতম অংশই প্রকৃত সীমারেখা।
কেন গুরুত্বপূর্ণ ?
স্যার ক্রিকের দখল মানেই কৌশলগত বাড়তি সুবিধা। ভারতের উপস্থিতি করাচি বন্দরে সরাসরি চাপ তৈরি করতে পারে, যা যুদ্ধাবস্থায় প্রথম লক্ষ্যবস্তু। অপরদিকে পাকিস্তানের বাড়তি প্রবেশাধিকার ভারতীয় সেনাকে একসঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে ব্যস্ত রাখার কৌশল তৈরি করতে পারে। এ অঞ্চল পাকিস্তান নৌবাহিনীকে আরব সাগরের উপকূলে প্রভাব বিস্তারের সুযোগও দেয়।
স্যার ক্রিক এশিয়ার অন্যতম বড় মাছ ধরার ক্ষেত্র। হাজারো জেলের জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত। সীমান্ত বিবাদের কারণে প্রায়ই উভয় দেশের জেলেরা বন্দি হয়। এছাড়া এখানে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত রয়েছে, যা পাক-আমেরিকা জ্বালানি সহযোগিতা প্রকল্পকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।শুধু সেনা নয়, সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কাও রয়েছে।
২০১৯ সালে এখানে পরিত্যক্ত নৌকা পাওয়া যায়, পরে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তানি স্পেশাল ফোর্সের অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলছিল। ঠিক যেভাবে উপকূলরক্ষী বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে ২৬/১১ হামলার জঙ্গিরা ঢুকে পড়েছিল মুম্বইয়ে।তৎকালীন নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল করমবীর সিং সতর্ক করেছিলেন, জৈশ জঙ্গিদের জলপথে হামলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফলে শুধু গুজরাত নয়, সমগ্র পশ্চিম উপকূলে কেরল পর্যন্ত জারি হয়েছিল রেড অ্যালার্ট।সংক্ষেপে, স্যার ক্রিককে কেন্দ্র করে ভারত-পাক উত্তেজনা শুধু সীমান্ত বিবাদ নয়, এর সঙ্গে জড়িত সামরিক, অর্থনৈতিক ও সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলগত গুরুত্ব।
