
বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ বল আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা-র তরফে। ‘ট্রিওন্ডা’ নামের এআই দ্বারা পরিচালিত এই বলটি ডিজাইন করেছে অ্যাডিডাস। জানা গিয়েছে, বলটিতে একটি চিপ সিস্টেম থাকছে যা ভিডিয়ো অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (VAR) সিস্টেমে ডেটা রিলে করে।
সম্প্রতি নিউইয়র্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলটি উন্মোচন করার পর ফিফা ব্যাখ্যা দিয়েছে, ‘অ্যাডিডাস ট্রিওন্ডা’র অর্থ হল, তিন তরঙ্গ। পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে যে, বলটি ডিজাইন করার মুখ্য উদ্দেশ্যই হল, প্রযুক্তি-সক্ষম সরঞ্জামগুলির মাধ্যমে ম্যাচ পরিচালক এবং কোচ তথা খেলোয়াড়দের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা। এর মধ্যে অফসাইড এবং ভিএআর সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত।
এ প্রসঙ্গে অ্যাডিডাস ফুটবলের জেনারেল ম্যানেজার স্যাম হ্যান্ডি বলেন, “এটি আমাদের তৈরি করা সবচেয়ে সুদৃশ্য ফিফা বিশ্বকাপ বল। এতে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চের জন্য তৈরি এমন এক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা আপনাকে বলটির প্রশংসা করতে এবং সর্বোপরি এটি দিয়ে খেলতে বাধ্য করে।” জানা যাচ্ছে, এই বিশেষ বলটিতে থাকছে ৫ টি বৈশিষ্ট্য। যা অত্যন্ত তাৎপর্যবাহী হতে চলেছে আসন্ন বিশ্বকাপে। আসুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই ৫ বৈশিষ্ট্য।(১) চিপ সিস্টেম: অ্যাডিডাস ‘ট্রিওন্ডা’ বলটিকে ডিজাইন করা হয়েছে একটি বিশেষ ধরনের মোশন সেন্সর চিপ দিয়ে। এই টুল বলটিকে একটি কানেক্টেড বল প্রযুক্তিতে পরিণত করে। বলের গতিবিধির তথ্য ভিডিয়ো অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (VAR) সিস্টেমে রিলে করে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ক্ষমতা VAR -এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ম্যাচের অ্যাকশন শনাক্ত করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি পেশাদার ম্যাচে রেফারিদের দ্বারা ব্যবহৃত বডি ক্যামেরা বা “রেফ ক্যাম”-এর একটি সংযোজন। যা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (IFAB) দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে।(২) প্লেয়ার পজিশনিং ট্র্যাকার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ‘ট্রিওন্ডা’ খেলোয়াড়দের পজিশনিং ডেটাও ট্র্যাক করতে পারে। এটি বলের প্রতিটি স্পর্শ নিবিড়ভাবে ট্র্যাক করে ম্যাচ পরিচালকদের দ্রুত অফসাইড এবং হ্যান্ডবল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ম্যাচ অফিশিয়ালদের পাশাপাশি এই টুলটি কোচদেরও দারুণ সাহায্য করবে।
কোচেরা এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের গতিবিধি এবং কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত থাকবেন সর্বদা। যা তাঁদের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।(৩) সর্বোত্তম ইন-ফ্লাইট স্থিতিশীলতা: ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপের ‘ব্রাজুকা’র মতো অন্যান্য ম্যাচ বলগুলি তাদের অস্বাভাবিক উড়ান এবং বার বার দিক পরিবর্তনের জন্য সমালোচিত হলেও ‘ট্রিওন্ডা’ স্থিতিশীলতার জন্যই ডিজাইন করা হয়েছে। অ্যাডিডাস ব্যখ্যা দিয়েছে, এই বলটির গঠন চার-প্যানেলের গঠন। এরই সঙ্গে থাকছে মজবুত সেলাই। কৌশলগতভাবে স্থাপন করা হয়েছে ডিবসড লাইন। এই বৈশিষ্ট্যের ফলে ‘ট্রিওন্ডা’ বলটিতে খেলোয়াড়দের পাস অনেক নির্ভুল হবে এবং সেই সঙ্গে বলের গতিবিধি বোঝা সহজ হবে বলে দাবি করা হয়েছে।(৪) বৈচিত্র্যময় জলবায়ু: ‘ট্রিওন্ডা’ বলটি ৩ টি দেশের ১৬ টি শহরে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। যেখানে আবহাওয়ার ধরন ভিন্ন।
এর অতিরিক্ত গ্রিপ টেক্সচার নিশ্চিত করে যে বলটি অবস্থান নির্বিশেষে খেলোয়াড়দের জন্য একই রকম অনুভূতি প্রদান করে। এ ছাড়া, এটি গেমপ্লে উন্নত করার জন্য এবং সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন ফুটবল উপহার দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।(৫) ট্রিওন্ডা কী এবং কেন: ট্রিওন্ডা হল দুটি শব্দের সমন্বয় যা তিনটি আয়োজক দেশকে সম্মান করে। ‘ট্রাই’ শব্দটি তিনটি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যদিকে ‘ওন্ডা’ একটি স্প্যানিশ শব্দ। যার অর্থ ‘তরঙ্গ’। যা প্রতিযোগিতা চলাকালীন গোটা বিশ্বকে একত্রিত করবে এমন উত্তেজনার সম্মিলিত তরঙ্গের প্রতীক। বলের নকশাটি ২০১৪ সালের ব্রাজুকার কথা মনে করিয়ে দেয়। এই নকশা কার্যত প্রতিটি আয়োজক দেশের জন্য তিনটি রঙের সংমিশ্রণ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নীল তারকা। কানাডার জন্য একটি লাল ম্যাপেল পাতা। মেক্সিকোর জন্য একটি সবুজ ঈগল।এদিকে ফিফা জানিয়েছে, প্রতিটি ‘ট্রিওন্ডা’ বল ১৭০ ডলার বা ১১৯ ইউরো মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এই বলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডরের তালিকায় রয়েছেন জুড বেলিংহাম, লিওনেল মেসি এবং ল্যামিন ইয়ামালের মতো শীর্ষ ফুটবল তারকারা।
