
আমেরিকার সঙ্গে ট্যারিফ নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই গত জুলাই মাসে ব্রিটেনের সঙ্গে ৯৯ শতাংশ শুল্কমুক্ত বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ভারত।যেখানে আমেরিকার বাজারে বহু ভারতীয় পণ্যকে প্রায় ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে সেখানে এই চুক্তির ফলে কোনও রকম শুল্ক ছাড়াই ব্রিটেনের বাজারে ভারতের ৯৯ শতাংশ পণ্য রফতানি হতে পারবে।সবমিলিয়ে ২০০ কোটি পাউন্ডের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কিয়ের স্টারমারের সাক্ষাত এবং দু-দেশের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর এবার ভারতে আসছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ৮-৯ অক্টোবর প্রথম সরকারি সফরে ভারতে আসছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন এবং ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন। ৯ অক্টোবর মুম্বইয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাৎ করবেন এবং “ভিশন ২০৩৫”-এর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তার আওতায় দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন। এই রোডম্যাপের মূল ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, জলবায়ু ও জ্বালানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক। দুই প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।পাশাপাশি ভারত-ব্রিটেন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হিসেবে ইন্ডিয়া – ইউনাইটেড কিংডম কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক এন্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট ( CETA )-এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও মত বিনিময় করবেন। মোদী ও স্টারমার মুম্বইয়ে গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট-এ যোগ দেবেন।ভারতও আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় ফিরলেও কিয়ের স্টারমারের এই সফরকে গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আগামী বছর কার্যকর হলে দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে টেক্সটাইল থেকে হুইস্কি পর্যন্ত নানা পণ্যে শুল্ক কমবে এবং বাজারে প্রবেশাধিকারে সুবিধা বাড়বে।
