
ভারতের ভেতরে পাকিস্তানের গুপ্তচরবৃত্তির নতুন কৌশল ফাঁস। পাকিস্তান হাইকমিশনের ভিসা ডেস্ককে সামনে রেখে চলত গোপন নজরদারির নেটওয়ার্ক। এবার সেই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে হরিয়ানার পলওয়াল জেলার বাসিন্দা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিম আক্রমকে। মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করা হয় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-এর বিভিন্ন ধারায়।
সূত্রের খবর, আক্রম পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তা জাফর ওরফ মুজাম্মিল হুসেনের হয়ে তথ্য সরবরাহের কাজ করত।ওয়াসিম প্রথমে পাকিস্তানে নিজের আত্মীয়দের দেখতে ভিসার জন্য আবেদন করেন। প্রথমে আবেদনটি বাতিল করা হলেও পরে ২০,০০০ টাকা ঘুষ দেওয়ার পর ভিসা মঞ্জুর হয়। এরপর ২০২২ সালের মে মাসে সে পাকিস্তানের কাসুরে আত্মীয়দের কাছে যায়।ভারতে ফিরে আসার পর থেকেই ওয়াসিম আক্রমের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ রাখত পাকিস্তান হাইকমিশনের জাফর। ভিসা সংক্রান্ত ফান্ডের নামে ওয়াসিম তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দেয়, বিনিময়ে কমিশনের প্রতিশ্রুতি পায়।প্রায় ৫ লক্ষ টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ।
এছাড়াও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নগদ টাকা দেওয়া হত। এর মধ্যে ২.৩ লক্ষ টাকা সে জাফরকে দেয়, যার মধ্যে ১.৫ লক্ষ টাকা নগদে। এছাড়াও সে হাইকমিশন কর্মকর্তাকে সিম কার্ড সরবরাহ করেছিল। ওয়াসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে ওটিপি দিত এবং ভারতীয় সেনার সদস্যদের সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করত।তদন্তকারী সংস্থার মতে, ওয়াসিম আক্রমের এই চক্রটি আসলে “পলওয়াল মডিউল”, যা আগের মালেরকোটলা ও নুহ কেসের মতোই এক ধরনের প্যাটার্নের অংশ। এই বছরের শুরুতে অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে মালেরকোটলা মডিউল ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই কেসে অপর পাকিস্তানি কর্মকর্তা ডেনিশ ওরফ এহসান উর রহিম স্থানীয়দের ভিসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে ব্যবহার করেছিল। তখন অভিযুক্তরা সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্যের বিনিময়ে ছোট ছোট ইউপিআই ট্রান্সফার পেত।

ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার জ্যোতি মালহোত্রার গুপ্তচরবৃত্তি মামলাতেও উঠে আসে ডেনিশের নাম।তদন্তে উঠে এসেছে, পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মীরা ভিসা আবেদনকারীদের দুর্নীতির মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে সিম কার্ড ও সেনা সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে। নুহ এলাকায় আরমান নামের এক ব্যক্তিকে সিম কার্ড ও ডিফেন্স এক্সপো ভিডিয়ো হাইকমিশনের কাছে পাঠানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই নেটওয়ার্কে টাকা লেনদেনের জন্য মধ্যস্থতাকারী ব্যবহার করাও একধরনের নির্দিষ্ট প্যাটার্ন, যা স্পষ্ট করে যে ভিসা ডেস্ককে সিস্টেম্যাটিকভাবে গুপ্তচরবৃত্তির ‘ফ্রন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভারত সরকার ইতিমধ্যেই ডেনিশ ও জাফরকে ‘পারসনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে দেশছাড়া করেছে। তাদের নাম গোয়েন্দা চক্রে জড়িত বলে উঠে আসার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনায় পরিষ্কার, পাকিস্তানের হাইকমিশনের ভিসা ডেস্ক কেবল কাগজে-কলমে ভিসা দেওয়ার জায়গা নয়, বরং ভারতের ভেতরে তথ্য জোগাড়ের একটি কৌশলগত গুপ্তচর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
