
দু’দিনের ভারত সফরে বুধবার মুম্বইতে এলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। মু্ক্ত বাণিজ্য চুক্তি(Free Trade Agreement – FTA) কার্যকর করা এবং “ভিশন ২০৩৫”(“India-UK Vision 2035”)-এর রূপরেখা অনুযায়ী দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করতেই তাঁর এই প্রথম ভারত সফর।
বুধবার সকালে ছত্রপতি শিবাজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্টারমারকে স্বাগত জানান মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রত এবং মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনভিস। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এসেছে ১২৫ সদস্যের এক বিশাল বাণিজ্য প্রতিনিধি দল। রয়েছেন ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী শন ডয়েল সহ যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কর্পোরেট নেতা-নেত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবারই রাত সাড়ে ১১ টায় ভারত ছাড়বেন ব্রিটেনের প্রাইম মিনিস্টার কিয়ের স্টারমার।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘ব্রিটেনের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রথম ঐতিহাসিক ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে স্বাগত জানাই। শক্তিশালী ও পারস্পরিক উন্নত ভবিষ্যৎ রচনার জন্য আগামিকাল আমাদের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছি।’
তবে ভারতে পা রেখেই কিন্তু ভিসা চুক্তি সম্প্রসারণের প্রশ্নে ব্রিটেনের বক্তব্য তুলে ধরেছেন স্টারমার। বলেছেন, ‘এটি আমাদের সফরের পরিকল্পনার অংশ নয়। ব্রিটেনের অভিবাসন নীতির কোনও পরিবর্তন হবে না।’’ এককথায় ঘুরিয়ে সোজাসুজি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে ভিসা চুক্তির কোনও সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই সফর মূলত স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা নেওয়ার জন্যেই।
বৃহস্পতিবার সকাল দশটা নাগাদ মুম্বইএর রাজভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে রয়েছে স্টারমারের বৈঠক। “ভিশন ২০৩৫” ঘিরে সেখানে আলোচনায় থাকবে দুই দেশের কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা, সাইবার নীতি, এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সহযোগিতা। বৈঠক শেষে দুই নেতাই যৌথভাবে অংশ নেবেন গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট ২০২৫-এ, যেখানে ভারতের দ্রুত বেড়ে ওঠা ডিজিটাল অর্থনীতি ও যুক্তরাজ্যের আর্থিক প্রযুক্তি খাতের মধ্যে নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে।
গত বছরের জুনে ব্রিটেনের মসনদে বসেছেন কিয়ের স্টারমার। প্রায় ১৪ বছর পর ক্ষমতায় ফেরে লেবার পার্টি। ব্রিটেনের ৬৫০ আসনের হাউস অফ কমন্সে ৪১২ আসনে জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। সেই সময় ফোনে কিয়ের স্টারমারকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দু-দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করতে আহ্বানও জানান। একই সঙ্গে ভারতে আসার আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন তিনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই মুম্বইতে পা রেখেছেনন ব্রিটেনের প্রাইম মিনিস্টার কিয়ের স্টারমার।

প্রসঙ্গত গত ২৪ জুলাই লন্ডনে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কথা ঘোষণা করেছিলেন মোদি এবং স্টারমার। চুক্তি কার্যকর হওয়ায় আমদানিকৃত সামগ্রীর দাম অনেকটাই কম হবে। দাম কমার তালিকায় যেমন চিকিৎসা, গাড়ি ও বিমানের সরঞ্জাম রয়েছে, তেমনি আছে হার্ড ড্রিঙ্কস হুইস্কি সহ সফট ড্রিঙ্কস এবং বিস্কুট, চকোলেট সহ প্রসাধনী সামগ্রীও। অন্যদিকে ব্রিটেন ভারত থেকে হিমায়িত চিংড়ি সহ পোশাক, চামড়ার জুতো এবং খাদ্য-পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে।
এই মুহূর্তে ভারত এবং ব্রিটেন কিন্তু বিশ্বের পঞ্চম এবং ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি। যাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৫৪.৮ বিলিয়ন ডলার। এবং সেই বাণিজ্য ঘিরেই উভয় দেশের কমবেশি ৬০০,০০০ মানুষ নির্ভরশীল।
