
আফ্রিকার ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে প্রথমবারের মতো ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলবে। মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের এই দেশ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে আইসল্যান্ডের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে। কেপ ভার্দে ৩-০ গোলে ইসোয়াতিনি হারিয়ে নিশ্চিত করেছে তাদের টিকিট। এই বছর দেশটির স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে, তাই এই অর্জন তাদের জন্য আরও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের পথে কেপ ভার্দের দল কিছুটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। শুরুতে অ্যাঙ্গোলা সঙ্গে ড্র এবং ক্যামেরুনের কাছে হার সত্ত্বেও, পরবর্তী পাঁচটি ম্যাচ তারা জিতে নিজস্ব যোগ্যতা নিশ্চিত করেছে। কোচ পেদ্রো ব্রিটোর নেতৃত্বে দলটি ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোল করে প্রতিপক্ষকে হারিয়েছে। শহরের মানুষরা প্রাইয়া কেন্দ্রে উৎসবের সঙ্গে রাস্তা জুড়ে নাচ, গান ও বাজি ফাটিয়ে উদযাপন করেছে।
দলটির অধিকাংশ ফুটবলার জন্ম দেশের বাইরে হলেও, তাদের বাবা-মা বা দাদু-দিদারা কেপ ভার্দের নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখা কেপ ভার্দের ফুটবল দল এই মুহূর্তে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা লাভের পর ২০০২ সালে প্রথমবার তারা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশগ্রহণ করে। এরপর থেকে ধাপে ধাপে উন্নতি করে ২০১৩ ও ২০২৩ সালে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২২টি দেশের টিকিট নিশ্চিত হয়েছে। আয়োজনকারী দেশ কানাডা, মেক্সিকো ও আমেরিকা অংশ নেবে। আফ্রিকা থেকে কেপ ভার্দে ছাড়াও ঘানা, মরক্কো, তিউনিসিয়া, মিশর ও আলজেরিয়ার দল খেলার সুযোগ পেয়েছে। এশিয়া থেকে উজবেকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, জর্ডান, অস্ট্রেলিয়া, ইরান ও জাপান অংশ নেবে, যেখানে জর্ডান ও উজবেকিস্তান প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলবে। লাতিন আমেরিকাতে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, কলম্বিয়া ও ইকুয়েডর টিকিট পেয়েছে।
বিশ্বকাপের জন্য এখনো ২৬টি স্থান বাকি রয়েছে, এবং ইউরোপ থেকে সরাসরি ১৬টি দল যোগ্যতা অর্জন করবে। কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক অর্জন ছোট দেশগুলোর জন্য প্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
