
ত্রিপুরার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আবারও অশান্তি ছড়িয়েছে। বাংলাদেশের চোরাচালানকারীদের হাতে এক গ্রামবাসীর মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার পর নিরাপত্তাবাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে তিনজন চোরাচালানকারীকে খতম করেছে। বুধবার এই ঘটনা ঘটে। নয়াদিল্লি থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশী চোরাচালানকারীরা লোহার দা ও ছুরি নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়। এক গ্রামবাসী নিহত হন এবং আরও একজন আহত হন। পরে নিরাপত্তাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং দুই চোরাচালানকারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন, পরদিন তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এই ঘটনার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে, স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন তদন্তের আর্জি করেছে। তারা বলেন, এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য নয়াদিল্লিকে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভারত এই অভিযোগ খারিজ করেছে এবং সীমান্তে চোরাচালানকারীদের হুমকি প্রতিহত করার দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেছে।
পশ্চিমবঙ্গেও সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। মালদা ও নদিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক বাংলাদেশি যুবক আলামিন খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভারতীয় দালালদের সহযোগিতায় তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ধরনের ঘটনার কারণে স্থানীয় গ্রামবাসীরা আতঙ্কে দিনযাপন করছেন। প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনী নিয়মিত পাহারা দিচ্ছে, তবে সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং চোরাচালান রোধ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্র সরকার উভয়ই সীমান্তে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে গ্রামবাসী সুরক্ষিত থাকতে পারেন।
