
ঢাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের নির্দেশে বাংলাদেশের ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে বুধবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দিন কয়েক আগে সেনা সদর দফতর এই কর্মকর্তাদের হেফাজতে নিয়ে একটি ভবনকেই অস্থায়ী কারাগার হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এবার ট্রাইবুনাল জানিয়েছে, তাঁদের সেখানেই রাখা হবে যতদিন না পর্যন্ত মামলার পরবর্তী নির্দেশ আসে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে একসঙ্গে এতজন সেনা অফিসারকে বেসামরিক আদালতে পেশ করার নজির নেই। সাধারণত সেনাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা সেনা আদালতেই নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু এবার তাঁদের বিচার চলছে মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে। এই সিদ্ধান্তে চরম অসন্তোষ ছড়িয়েছে সেনা মহলে।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সহ ২৫ জন সেনা কর্মকর্তা। তাঁদের বিরুদ্ধে গুম, খুন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই সেনা সদস্যদের অনেকেই হাসিনা সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন কেউ ছিলেন ডিজিএফআইয়ের প্রধান, কেউ র্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে এখন প্রবল অস্থিরতা। বিশ্লেষকদের মতে, হাসিনা-সমর্থক সেনা অফিসারদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের অবস্থানও আলোচনায় উঠে এসেছে। দেশজুড়ে এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা, যা বাংলাদেশের সামরিক-রাজনৈতিক ভারসাম্যকে নাড়া দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
