
বিশ্বজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ঘোষণায়। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, আমেরিকার যুদ্ধ দফতরকে দ্রুত পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানকালে নিজস্ব সমাজমাধ্যমে তিনি এই বার্তা দেন। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ফের শুরু হয়েছে উদ্বেগ ও রাজনৈতিক আলোচনার ঝড়।
সম্প্রতি রাশিয়া পরমাণু অস্ত্রবহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ‘বুরেভেস্টনিক’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। একই সঙ্গে পরমাণু শক্তিচালিত ড্রোন টর্পেডো ‘পোসাইডন’-এর পরীক্ষায়ও সফলতা দাবি করেছে মস্কো। এই ধারাবাহিক সাফল্যই সম্ভবত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া ও চিন এখন পরমাণু শক্তি বৃদ্ধিতে যে গতি দেখাচ্ছে, তা ওয়াশিংটনের কাছে সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
ট্রাম্প বর্তমানে এশিয়া সফরে রয়েছেন। মালয়েশিয়া ও জাপান ঘুরে বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছন তিনি। সেখানেই চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। বৈঠকের কিছু ক্ষণ আগেই ট্রাম্প ঘোষণা করেন নতুন পরমাণু পরীক্ষার পরিকল্পনা। আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি কৌশলগত বার্তাও রাশিয়া ও চিনকে বুঝিয়ে দেওয়া যে, আমেরিকা এখনও বিশ্ব পরমাণু শক্তির শীর্ষে রয়েছে।
রাশিয়ার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের দিকে তাকালে সেই উদ্বেগ অমূলক নয়। মস্কো দাবি করেছে, তাদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ১৪ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়ে ১৫ ঘণ্টা আকাশে থাকতে পারে এবং যে কোনও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম। অন্যদিকে, চিনও তার পরমাণু প্রকল্পে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই দুই দেশ আমেরিকার সমান শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের নির্দেশকে মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলির মতে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্বে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। ঠান্ডা যুদ্ধের যুগের পর ফের এমন পরিস্থিতি দেখা দিলে তা বৈশ্বিক শান্তির পক্ষে বড় হুমকি হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলিতেও তৈরি হয়েছে বিভাজন। কেউ একে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা কৌশল বলে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি আগুন নিয়ে খেলা। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে সত্যিই কি শুরু হবে নতুন পরমাণু যুগের দ্বিতীয় অধ্যায়?
