
হুগলির খানাকুল থানার অন্তর্গত তাঁতিশাল গ্রাম পঞ্চায়েতে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র এলাকায়। এক বিশেষভাবে সক্ষম যুবতীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক প্রৌঢ় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আরও ভয়ঙ্কর, এই নৃশংস ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন নির্যাতিতার মা স্বয়ং।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২২ বছর বয়সি ওই বিশেষভাবে সক্ষম যুবতী নিয়মিত প্রতিবেশী বাড়ির আশপাশে খেলাধুলা করত। সেই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেয়। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে দেখতে না পেয়ে তার মা চারপাশে খোঁজ শুরু করেন। অভিযুক্তের বাড়ির দিক থেকে মেয়ের আর্তনাদ শুনে তিনি দৌড়ে গিয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকেন। সেখানে দেখা যায় মেয়েকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে রেখেছে ওই ব্যক্তি।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে, অভিযুক্তকে ধরে ফেলে উত্তেজিত জনতা। খবর পেয়ে খানাকুল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। নির্যাতিতাকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় চিকিৎসার জন্য।
ঘটনার পর থেকে পুরো তাঁতিশাল গ্রাম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়রা অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি ও এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিশেষভাবে সক্ষম মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন উদাসীন। এমন বর্বর ঘটনার পর সমাজে নিরাপত্তা, মানবিকতা ও প্রতিবন্ধী সুরক্ষার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পকসো আইনের একাধিক ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ দুই-ই প্রবল। মানুষের মুখে একটাই দাবি “অপরাধীর কঠোরতম শাস্তি হোক, যাতে এমন নৃশংসতা আর না ঘটে।”
