
নয়াদিল্লি: পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করছে! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবি ঘিরে কূটনৈতিক আলোচনার ঝড় উঠেছে। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের মন্তব্যে নজর রেখেছে এবং বিষয়টি ইসলামাবাদের গোপন পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে দেখছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রন্ধীর জয়স্বাল জানান, পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি বরাবরই অনিয়ম ও অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগে ঘেরা। আন্তর্জাতিক রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন, গোপন অংশীদারিত্ব ও কালোবাজারি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইসলামাবাদ অতীতে একাধিকবার পরমাণু প্রযুক্তি ছড়িয়েছে। দিল্লির মতে, ট্রাম্পের মন্তব্য সেই পুরনো বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া ও চীন পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে, কিন্তু সেই খবর প্রকাশ্যে আসছে না। যুক্তরাষ্ট্রও যেন পিছিয়ে না থাকে, তাই নিজ দেশেও পরীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তবে মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের প্রধান ক্রিস রাইট পরে স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনও জীবন্ত পারমাণবিক বিস্ফোরণ চালানোর পরিকল্পনা করছে না; শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক সিমুলেশন হবে।
পাকিস্তানের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইসলামাবাদ ১৯৯৮ সালের পর থেকে পারমাণবিক পরীক্ষা স্থগিত রেখেছে এবং প্রথমে সেই নিয়ম ভাঙবে না।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই ১৯৯৮ সালের পর থেকে পারমাণবিক পরীক্ষায় একতরফা বজায় রেখেছে এবং এখনো পর্যন্ত পরমাণু বিস্ফোরণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করেনি।
এই বিতর্ক ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে পারমাণবিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।
