
তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের শান্তি আলোচনা আবারও ব্যর্থ হয়েছে। ইস্তানবুলে হওয়া চূড়ান্ত দফার বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্রতর হয়েছে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকার জানিয়েছে, যদি সংঘাত শুরু হয়, তবে তারা আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রাখে।
অক্টোবর থেকে দুই দেশের সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে। কাবুলে পরপর বিস্ফোরণের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে আফগানিস্তান, আর এর জবাবে পাকিস্তান সীমান্তে বিমান হামলা চালায়। এই সংঘর্ষে বহু সেনা ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। কয়েকদিনের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও তা স্থায়ী হয়নি।
আলোচনার ব্যর্থতার পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, আলোচনার পর আর কোনো সমাধান না এলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রীও বলেছেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিজেদের জনগণকে রক্ষা করাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার। অন্যদিকে আফগানিস্তান জানিয়েছে, তারা অন্য দেশের বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না এবং সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন সহ্য করবে না।
এর আগেও তুরস্ক এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, উভয় দেশ যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও লঙ্ঘনের শাস্তি নির্ধারণে একমত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সীমান্তে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় ওই চুক্তির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এই দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমানে উভয় পক্ষের অবস্থান এতটাই কঠোর যে নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাও এখন দূরবর্তী বলে মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
