
ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রথমবারের মতো অ্যাঙ্গোলা সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। চার দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ২০২৫ সালে অ্যাঙ্গোলা স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং ভারত-অ্যাঙ্গোলা কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্ণ করবে।
এই সফরে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। ভারত বর্তমানে অ্যাঙ্গোলা থেকে বিপুল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি করতে আগ্রহী। পাশাপাশি ভারতীয় সংস্থাগুলি অ্যাঙ্গোলার অনশোর ও অফশোর তেল অনুসন্ধান এবং রিফাইনারি আধুনিকীকরণ প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
এছাড়া, অ্যাঙ্গোলার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ—যা নবায়নযোগ্য শক্তি ও ইলেকট্রনিক শিল্পে অপরিহার্য—সে ক্ষেত্রেও ভারত বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। হীরার উৎপাদনে অ্যাঙ্গোলা এবং কাটিং ও পালিশে ভারতের বিশ্বনেতৃত্ব—এই দুটি দেশকে পরস্পরের প্রাকৃতিক অংশীদার করে তুলেছে।
সফরে মৎস্য, জলচাষ, সামুদ্রিক সম্পদসহ একাধিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রযুক্তি, কৃষি, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও যুব দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। অ্যাঙ্গোলার আন্তর্জাতিক বাঘ সংরক্ষণ জোট ও গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্সে যোগদানকেও ভারত স্বাগত জানায়।
প্রতিরক্ষা খাতে, ভারত অ্যাঙ্গোলাকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণসুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অ্যাঙ্গোলার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
রাষ্ট্রপতি মুর্মুর এই সফর শুধু বাণিজ্য নয়, বরং টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় ও যুবশক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে আফ্রিকায় ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উপস্থিতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
