
দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় মারাত্মক বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু ও বহু আহতের ঘটনায় নতুন মোড়। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ দাবি করেছে, একটি বড় জঙ্গি চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে দিল্লির এই বিস্ফোরণের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে দুইজন চিকিৎসকও রয়েছেন। অনন্তনাগের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন রেসিডেন্ট ডাক্তার আদিল আহমদ রাঠারের লকার থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার হয়েছে। তিনি গত বছর চাকরি ছেড়ে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে নতুন চাকরি নিয়েছিলেন, সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য অভিযুক্ত ডা. মুজাম্মিল আহমদ গণাইকে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে আটক করে পুলিশ।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের বক্তব্য, এই মডিউলটি নিষিদ্ধ সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের সঙ্গে যুক্ত। অভিযানে দুটি একে রাইফেল, দুটি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও প্রায় ২,৯০০ কেজি আইইডি তৈরির উপকরণ উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চক্রটি শিক্ষাগত ও পেশাগত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ ও সদস্য নিয়োগের কাজ চালাত।
এদিকে, দিল্লি পুলিশের হাতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়ি লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরিত হওয়ার আগে একমাত্র পুরুষ চালক ছিলেন গাড়িতে। গাড়িটি হরিয়ানায় নিবন্ধিত হলেও বহুবার মালিকানা বদল হয়েছে। বর্তমানে গাড়িটি কাশ্মীরের পুলওয়ামার ডা. উমর-উন-নাবির নামে নথিভুক্ত, যিনি তদন্তে মূল সন্দেহভাজন।
এই ঘটনার সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের গ্রেপ্তারকৃত চিকিৎসক ও অন্যান্য অভিযুক্তদের সংযোগ খুঁজে বের করতেই এখন মূলত কাজ করছে দিল্লি ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।
