
দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের তদন্তে নতুন মোড়। মঙ্গলবার সকালে ফরিদাবাদের আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরও তিনজন চিকিৎসককে আটক করেছে তদন্তকারীরা। ধৃতদের নাম মুজাম্মিল শাকিল, উমর মোহাম্মদ এবং শহিদ শাহিদ। মুজাম্মিল ও উমর কাশ্মীরের বাসিন্দা, আর শহিদ লখনউয়ের। তিনজনই ফরিদাবাদের এক হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ফরিদাবাদে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুজাম্মিল শাকিল। পুলিশ সূত্রে খবর, তার ভাড়া নেওয়া দুটি ঘর থেকে প্রায় ২,৯০০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক সামগ্রী ও সন্দেহজনক উপাদান উদ্ধার হয়েছে। অথচ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই থাকতেন। সেই কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আজ সকালে দিল্লি পুলিশ ক্রাইম ব্রাঞ্চের কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন এবং ছাত্র-শিক্ষকসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। তাদের মতে, বিস্ফোরণের পেছনে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল, যার শিকড় ফরিদাবাদ থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন কাশ্মীরের এক চিকিৎসক, যিনি বিস্ফোরণের দিন দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন বলে সন্দেহ। সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কুড়িরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
এনআইএ (জাতীয় তদন্ত সংস্থা) আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তভার হাতে নিচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন বিস্ফোরণের পেছনের সংগঠন ও পরিকল্পনা উদঘাটনে জোর দিচ্ছেন। প্রাথমিক অনুমান, আটক চিকিৎসকদের মধ্যে কয়েকজন জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও কড়া করা হয়েছে।
