
জলপাইগুড়ির প্রাচীন সুনীতিবালা সদর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান ও সহকারী শিক্ষিকার ওপর শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসনের স্থানীয় নেতা সৈকত চ্যাটার্জির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষিকা সুতপা দাসকে কান ধরে ওঠবস করানোর এবং সহকারী শিক্ষিকা অরুণিমা মৈত্রকে পা ধরতে বাধ্য করার ঘটনা সামনে এসেছে। প্রায় ৯ মাস আগের এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভিডিওটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে শহরের মানুষদের মধ্যে শোরগোল সৃষ্টি করেছে।
প্রধান শিক্ষিকা জানান, স্কুল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মতবিরোধের কারণে এই ঘটনার শিকার হন তিনি। তিনি ইতিমধ্যে বিষয়টি শিক্ষা দফতরের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখিত অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজ জমা দিয়েছেন। সহকারী শিক্ষিকা অরুণিমা মৈত্রও ঘটনার পর তিনবার পথ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এবং থানায় অভিযোগ করেছেন।
সৈকত চ্যাটার্জি দাবি করেছেন, ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি ফেক ভিডিও এবং তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। তিনি জানিয়েছেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার নিয়োগ অবৈধ এবং এ নিয়ে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষিকারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, তারা আদালতের মাধ্যমে ন্যায্য বিচার চাইবেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা শিক্ষিকাদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আইনি সহযোগিতা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই ঘটনার কারণে স্কুলের শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ১৫৩ বছরের পুরনো এই স্কুলে শিক্ষিকাদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের তৎপরতা প্রয়োজন। গোটা জলপাইগুড়ি শহরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও নৈতিকতার বিষয়টি এখন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
শিশুদের সুরক্ষা ও শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি স্থানীয় সমাজের জন্য এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
