
পাকিস্তানে ইতিহাসের অন্যতম বড় সাংবিধানিক পরিবর্তনের পথে দেশ। সোমবার সিনেট পাস করেছে বিতর্কিত ২৭তম সংবিধান সংশোধনী বিল, যার মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে নতুন সামরিক পদ ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ এবং প্রতিষ্ঠিত হবে ‘ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট’। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ৬৪ ভোটে বিলটি পাস করে।
বিলটি সিনেটে উপস্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার। সংশোধনীর প্রস্তাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী’র পরামর্শে সেনাপ্রধান এবং চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস নিয়োগ করবেন। বর্তমান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির পদ আগামী ২৭ নভেম্বর বিলুপ্ত হবে। নতুন পদে সেনাপ্রধানই থাকবেন দেশের সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ প্রধান।
বিলের আওতায় সরকারকে সেনা কর্মকর্তাদের ‘ফিল্ড মার্শাল’, ‘মার্শাল অব দ্য এয়ার ফোর্স’ এবং ‘অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট’ পদে উন্নীত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা আজীবন বহাল থাকবে।
সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান-সংক্রান্ত মামলাগুলির জন্য গঠন করা হবে নতুন ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্ট, আর বিদ্যমান সুপ্রিম কোর্ট দেখবে কেবল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা।
ভোটাভুটির সময় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় সিনেটে। বিরোধী পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সদস্যরা বিলের কপি ছিঁড়ে ফেলে স্লোগান দিতে দিতে সভা বর্জন করেন। তাদের অনুপস্থিতিতে বিলটি অনায়াসে পাস হয়।
এখন বিলটি যাবে জাতীয় পরিষদে, যেখানে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সহজেই অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংশোধনী পাকিস্তানে সামরিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা আরও সুসংহত করবে এবং বেসামরিক প্রশাসনের উপর তাদের প্রভাব বাড়াবে।
