
প্রচণ্ড তাণ্ডব চালিয়ে সোমবার ফিলিপাইন ছেড়েছে টাইফুন ফাং–ওয়ং। প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের একাধিক প্রদেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৪ লক্ষাধিক মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার রাতে উত্তর–পূর্ব অরোরা প্রদেশে ঘণ্টায় প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ে ফাং–ওয়ং। এরপর ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ায় গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় পুরো প্রদেশে। অন্তত ১৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, বহু মানুষ ঘরের ছাদে আটকে পড়ে উদ্ধারের অপেক্ষায় ছিলেন।
সরকারি দুর্যোগ দপ্তরের মতে, পাহাড়ি অঞ্চল নুয়েভা ভিজকায়া ও ইফুগাও–তে ভূমিধসে তিন শিশু-সহ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আবার কালিঙ্গা প্রদেশে আরও দুই জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কৃষিক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
এই টাইফুনটি আঘাত হানে এমন সময়ে, যখন দেশটি আগের সপ্তাহে টাইফুন কালমেগির তাণ্ডবে এখনও বিপর্যস্ত। সেই ঝড়ে ২০০–র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ফাং–ওয়ং সেই ক্ষতচিহ্নের উপর আরও ধ্বংস নামিয়ে আনে।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। রাজধানী ম্যানিলা সহ উত্তরাঞ্চলের একাধিক এলাকায় এখনো বৃষ্টি চলছে, যা নতুন ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। প্রায় ৬,৬০০ যাত্রী ও কর্মী বিভিন্ন বন্দরে আটকে আছেন। দেশজুড়ে ৩২৫–এর বেশি উড়ান বাতিল হয়েছে।
প্রতি বছর প্রায় ২০টি টাইফুন ফিলিপাইন আঘাত হানে। আগ্নেয়গিরি, ভূমিকম্প ও ঘূর্ণিঝড় সব মিলিয়ে দেশটি বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগ–প্রবণ অঞ্চল হিসেবেই পরিচিত।
