
দিল্লিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণ কাণ্ডে উঠে এসেছে এক রোমহর্ষক তথ্য। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম পরিকল্পনা করেছিল ৬ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনে, ধারাবাহিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভয়াবহ নাশকতা চালানোর। তার উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় আবেগকে উসকে দিয়ে দেশজুড়ে আতঙ্ক এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করা।
তদন্তে জানা গেছে, জহিরুল দীর্ঘদিন ধরে এই হামলার পরিকল্পনা করছিল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপূর্তির দিনে দেশজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সে বড়সড় হামলার ছক কষেছিল। এই ঘটনার সূত্র ধরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানতে পারে, জহিরুল একাধিকবার পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে গিয়েছিল, যেখানে সে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেয়। তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের যোগ থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
জহিরুলকে জেরা করে তদন্তকারীরা বেশ কিছু বিস্ফোরক, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং হামলার নকশা উদ্ধার করেছে। তার স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে আরও কয়েকজন সহযোগীর নাম, যাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই হামলার নেপথ্যে ছিল একটি বড় নেটওয়ার্ক, যার উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট দিনে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো।
ঘটনার পর থেকেই দিল্লিসহ দেশের একাধিক বড় শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ৬ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পিত এই হামলা ভারতের শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য এক বড় হুমকি হতে পারত, যা সময়মতো আটকানো গিয়েছে।
বর্তমানে জহিরুলকে হেফাজতে রেখে বিস্তারিত জেরা চলছে, এবং তদন্তকারীরা বিশ্বাস করছেন তার জেরার মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে, যা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
