
বিহার নির্বাচনের ফলাফলের প্রাক্কালে ফের রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিহারের রাজনীতিতে নিজের দাপট ধরে রেখেছেন তিনি। বহুবার জোট পরিবর্তনের কারণে সমালোচিত হলেও, তাঁর রাজনৈতিক টিকে থাকার ক্ষমতা আজও চর্চার বিষয়।
বকতিয়ারপুরে জন্ম নীতীশ কুমারের। ছাত্রজীবনেই জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে গঠিত জেপি আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৭৪ সালে গ্রেফতার হন, জরুরি অবস্থার সময়ও বন্দি ছিলেন। ১৯৮৫ সালে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে রাজনীতির মঞ্চে প্রবেশ। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে রেল, কৃষি ও পরিবহণ মন্ত্রকের দায়িত্বও সামলান।
২০০০ সালে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সাত দিনেই পদত্যাগ করতে হয়। ২০০৫ সালে বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধে বড় জয় পান এবং পূর্ণ মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রী হন। উন্নয়ন, অবকাঠামো ও নারী ক্ষমতায়নে তাঁর পরিকল্পনা প্রশংসিত হয়। ২০১০ সালের নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর ২০১৩ সালে মোদির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
২০১৫ সালে আরজেডি ও কংগ্রেসের সঙ্গে গঠিত মহাগঠবন্ধনে ফের ক্ষমতায় ফিরে আসেন। কিন্তু ২০১৭ সালে দুর্নীতির অভিযোগে সেই জোট ভেঙে ফের এনডিএ-তে যোগ দেন। ২০২২ সালে আবার মহাগঠবন্ধনে, আর ২০২৪ সালে ফের এনডিএ-র শিবিরে প্রত্যাবর্তন একের পর এক বদল তাঁকে দিয়েছে ‘পাল্টু রাম’ তকমা।
তবে অনেকে বলেন, এটাই নীতীশ কুমারের টিকে থাকার কৌশল। ২০২৫ সালের নির্বাচনে প্রশ্ন একটাই বিহার কি আবারও বিশ্বাস রাখবে এই ‘বেঁচে থাকার কারিগর’-এর ওপর?
