
দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি আমৃতা সিনহার বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত হওয়ার পর অন্য দলে যোগ দেওয়ায় মুকুল রায় আর বৈধভাবে বিধায়ক পদে থাকতে পারেন না। ফলে তিনি এখন থেকে আর কৃষ্ণনগর উত্তর আসনের বিধায়ক নন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু নির্বাচনের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। এই পদক্ষেপকে দলত্যাগ বিরোধী আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করে বিজেপি নেতৃত্ব। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও অন্যান্য বিজেপি বিধায়করা বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করেন।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বিধানসভার অধ্যক্ষকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছিল। পরে অধ্যক্ষ ঘোষণা করেন, মুকুল রায় দলত্যাগ বিরোধী আইন ভঙ্গ করেননি এবং বিধায়ক পদে বহাল থাকবেন। এই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে বিজেপি ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার আদালত জানিয়ে দেয়, অধ্যক্ষের সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত নয়। দলত্যাগ বিরোধী আইন স্পষ্টভাবে বলে, যে কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধি অন্য দলে যোগ দিলে তার আসন খালি বলে গণ্য হবে।
এই রায়ের ফলে রাজ্যে রাজনৈতিকভাবে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বিজেপি শিবিরে স্বস্তি, অন্যদিকে তৃণমূলের অস্বস্তি বেড়েছে। মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের পর কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের এই রায় রাজ্যের দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
