
দিল্লির লালকেল্লার কাছে সোমবার ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের দুই দিন পর পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও নতুনভাবে তদন্তকে জটিল করে তুলেছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে লস্কর-ই-তইবার জঙ্গিরা তাদের কমান্ডারদের ফুল ও মালা দিয়ে বরণ করছে, আর চারপাশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, এই বৈঠকটি কি দিল্লি বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত।
ভারতীয় গোয়েন্দারা এখন ভিডিও ফুটেজের সময়কাল, অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় এবং তাঁদের আচরণ বিশ্লেষণ করছেন। প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি উদযাপনমূলক বৈঠক যেখানে জঙ্গিরা সম্ভবত বিস্ফোরণ সফল হওয়ায় আনন্দিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল পিওকের কোটলি এলাকায়, যেখানে লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ নেতা আবদুল রউফ ও রিজওয়ান হানিফ উপস্থিত ছিলেন। হানিফ লস্কর ও জইশ-ই-মহম্মদের যৌথ কমব্যাট ইউনিটের প্রধান, এবং ভারতীয় গোয়েন্দা রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে তিনি সীমান্ত পারের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখেন।
দিল্লির বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত হয় এবং ভারত সরকার এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে ঘোষণা করেছে। মূল অভিযুক্তদের সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের যোগ থাকায় সীমান্ত পারের জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ছে।
গোয়েন্দারা এখন ভিডিও ফুটেজ থেকে সম্ভাব্য যোগসূত্র চিহ্নিত করতে এবং লস্কর ও জইশের কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে তৎপর। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বিস্ফোরণের সময়কাল ও অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থা সীমান্ত পারের নেটওয়ার্কের জড়িত থাকার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না।
এই ঘটনা শুধু দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তকেই জটিল করছে না, বরং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং সীমান্ত পারের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পর্কে নতুন প্রশ্নও তুলে ধরেছে।
