
জাতীয় সুরক্ষায় নতুন দিগন্ত স্পর্শ করল ভারত। চিন সীমান্তের একেবারে কাছেই পূর্ব লাদাখের ন্যোমা বিমানঘাঁটিকে এবার পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় করে তোলা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩,৭০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই এয়ারবেস বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম সক্রিয় বিমানঘাঁটি হিসেবে কাজ করবে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভারতের জন্য এক বড় গেম চেঞ্জার।
লাদাখের ন্যোমা বিমানঘাঁটি লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে। ফলে প্যাংগং সো, ডেমচক কিংবা অন্যান্য সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলে দ্রুত সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো এখন অনেক সহজ হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে এটি ভারতীয় সেনার কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ ‘লাইফলাইন’ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই এয়ারবেসকে সম্পূর্ণ রূপে আধুনিক করতে প্রায় ২৩০ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। পুরনো মাটির রানওয়েটিকে পরিবর্তন করে এখন ২.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ শক্ত কংক্রিটের রানওয়ে নির্মিত হয়েছে, যেখানে এখন ভারী সামরিক বিমান এমনকি যুদ্ধবিমানও নির্বিঘ্নে অবতরণ করতে পারবে। এর ফলে ভারতীয় বায়ুসেনার ফরওয়ার্ড বেসগুলির সক্ষমতা এক ধাক্কায় বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্প্রতি ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং হিন্দন থেকে C-130J ‘সুপার হারকিউলিস’ বিমান উড়িয়ে ন্যোমায় অবতরণ করে এই এয়ারবেসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
ভারত যখন অরুণাচল প্রদেশে ‘পূর্বী প্রচণ্ড প্রহার’ নামে বৃহৎ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে, সেই সময় লাদাখে ন্যোমা এয়ারবেস সক্রিয়করণ সীমান্তে ভারতের কৌশলগত ক্ষমতা এবং তৎপরতার এক স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ চিনের সীমান্তে বাড়তে থাকা সামরিক পরিকাঠামোর যথাযথ জবাব এবং ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশলের দৃঢ় প্রকাশ।
