
দিল্লি বিস্ফোরণ ও ফরিদাবাদ থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারীদের। জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র চিকিৎসক ডা. শাহিন সাঈদ পুলওয়ামা হামলার মূলচক্রী উমর ফারুকের স্ত্রী আফিরা বিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। আফিরা বিবি জৈশ-ই-মহম্মদের নবগঠিত মহিলা ব্রিগেড ‘জমাত-উল-মোমিনাত’-এর মুখ্য সদস্য এবং উপদেষ্টা পরিষদ ‘শুরা’-র সদস্যও। সংগঠনের ভারতের শাখা গড়ে তোলার দায়িত্বই ছিল শাহিনের উপর, বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।
তদন্তে আরও জানা গেছে, শাহিন দীর্ঘদিন ফরিদাবাদের আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তার গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি প্রায়ই অনুমতি ছাড়াই অনুপস্থিত থাকতেন এবং সহকর্মীরা তাঁর আচরণ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, শাহিন অতীতে কানপুরের এক মেডিক্যাল কলেজে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন এবং ২০১৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দুবাইয়ে ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে শাহিনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয় ২০১২ সালে। প্রাক্তন স্বামী ও দুই সন্তান বর্তমানে লখনউয়ে থাকেন। পরিবারের দাবি, শাহিন আগে কখনও ধর্মীয় চরমপন্থায় জড়াননি। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি কিছু মাস ধরে আফিরা বিবির সঙ্গে অনলাইন যোগাযোগ রাখতেন এবং সংগঠনে নতুন সদস্য নিয়োগের চেষ্টা করছিলেন।
এই মামলায় শাহিন ছাড়াও আরও দুই চিকিৎসক মুজাম্মিল ও উমর এর নাম উঠে এসেছে। তিনজনই আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, উমরই ছিল দিল্লির রেড ফোর্টের কাছে বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত, যে ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ২০ জন আহত হন। মুজাম্মিল ও শাহিন বর্তমানে জেল হেফাজতে।
এই ঘটনার পর আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়কে নোটিস পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীরা এখন শাহিনের উপস্থিতির রেকর্ড ও বিদেশ সফরের বিস্তারিত খতিয়ে দেখছেন।
