
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্লিন চিটের পর হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত সাংবাদিক জামাল খাশোগির স্ত্রী হানান এলাত্র খাশোগি। ট্রাম্পের মন্তব্যে জামালকে ‘বিবাদিত’ ও ‘অপছন্দের’ হিসেবে উল্লেখ করা হানানের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, তার স্বামীকে এইভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
জামাল খাশোগি ২০১৮ সালে ইস্তানবুলের সৌদি কনসুলেটে নিহত হন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে প্রিন্সের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এর পরও ট্রাম্প প্রিন্সকে সমর্থন জানিয়ে সাক্ষাৎ ও হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে সৌদি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই নরম অবস্থান হানানের জন্য অপ্রত্যাশিত এবং ব্যথাদায়ক।
হানান ট্রাম্পকে ‘শান্তির মানুষ’ হিসেবে সম্বোধন করে তার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং জামালের প্রকৃত চরিত্র তুলে ধরার জন্য সাক্ষাৎ চেয়েছেন। তিনি জানান, জামাল একজন স্বচ্ছ, দয়ালু এবং সাহসী মানুষ ছিলেন, যার প্রেস স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকার অনেকের সাথে মতভেদের জন্ম দিয়েছিল। তিনি প্রিন্সের পক্ষ থেকে কোনো ক্ষমা বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই হত্যাকে বৈধ মনে করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেছেন।
হানানের বার্তায় ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি চান, জামালের প্রকৃত সত্তা এবং তার নৈতিকতা সম্পর্কে ট্রাম্প সচেতন হোন। পাশাপাশি, তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, প্রিন্স তাকে দেখা করতে আসবেন, ক্ষমা চেয়ে ক্ষতিপূরণ দেবেন এবং জামালের হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
জামালের মৃত্যু ও ট্রাম্পের সৌদি সফরের ঘটনা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে। হানানের এই প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং প্রেস স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের মূল্য তুলে ধরছে।
