
রাজ্যে আগামী নির্বাচন ঘিরে এসআইআর প্রক্রিয়া যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রশাসনিক চাপ ও সাধারণ মানুষের অস্বস্তি। একাধিক জেলায় পরপর মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, রাজ্যজুড়ে এসআইআর কার্যপ্রণালী এমনভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলেই আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে বুথ লেভেল অফিসাররা। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিপুল সংখ্যক ফর্ম যাচাই, সংশোধন ও আপলোড করা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব। তাড়াহুড়োয় ভুল ফর্ম আপলোড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে প্রকৃত ভোটাররাই সমস্যায় পড়তে পারেন। অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ উঠছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, যেটুকু কাজ সম্পন্ন করতে সাধারণত তিন বছর সময় লাগে, সেটি মাত্র তিন মাসে শেষ করার নির্দেশ এসেছে। এই অযৌক্তিক তাগাদাই ধারাবাহিক মৃত্যুর পেছনে দায়ী বলে তিনি মনে করছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের সিইও–র ভূমিকা নিয়েও। তাঁর মতে, মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করে শো-কজ নোটিশের মতো পদক্ষেপে কর্মকর্তাদের আরও বিপাকে ফেলা হচ্ছে।
এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়া অন্তত সাময়িকভাবে স্থগিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, সঠিক প্রশিক্ষণ ছাড়া এই উদ্যোগ এগোনো উচিত নয় বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। কমিশনের তরফে এখনও চিঠি নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা নিয়েই জোর আলোচনা।
